বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

“মেধা ও মননে সুন্দর আগামী” এ স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরী সম্মেলন-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১শ জন কিশোর-কিশোরী জেলা পর্যায়ের এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। লিখিত ও বিষয়ভিত্তিক উইস্থত বক্তুতা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে প্রথমে ২৫ জন পরে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ১০ জন প্রতিযোগীকে বাছাই করা হয়। তারা আগামীতে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউ-েশনের সহযোগিতায় “সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচি”র আওতায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন উন্নয়ন সোসাইটি এ সম্মেলনের আয়োজন করে।  দিন ব্যাপী সম্মলন শেষে বিকেলে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিদের সনদপত্র বিতরণ করেন পুলিশ সুপার টিএম মোজাদিুল ইসলাম বিপিএম। শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউ-েশনের ব্যবস্থাপক (কার্যক্রম) মিনহাজ উদ্দীন শেখ, প্রয়াসের জেষ্ঠ্য উপ-পরিচালক নাসের উদ্দীন সজল, শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের প্রভাষক ও প্রয়াসের কোষাধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার সাহাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক মুহম্মদ তাকিউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার টি এম মোজাদিুল ইসলাম বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা সকলে ধর্মভীরু হবো, তবে ধর্মান্ধ হবো না এবং এই বার্তা বাবা-মাসহ সমাজের সকলের কাছে পৌঁছে দেব। নিজের এলাকায় ঘটে যাওয়া যেকোনো অপরাধের কথা পুলিশতে জানাতে হবে। হয়ত ১শ জনের মধ্য থেকে মাত্র ১০ জন প্রাথমিকভাবে জেলাকে প্রতিনিধিত্ব করবে। কিন্তু আমার কাছে সকলেই সফল। তাই মন খারাপ করার কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, জিপিএ-৫ ই কোনো ভালো ছাত্রের বৈশিষ্ট্য নয়। যে ছেলেটি ভালো গান করে, ভালো বিতর্ক করে, ভালো ফুটবল খেলে, ভালো গান গায় আমার কাছে সেই ভালো ছাত্র। জিপিএ-৫ ছাড়াও অনেকেই ভালো ছাত্র হতে পারে। তবে এতজন ভালো ছাত্র হতে হলে অব্যশই সিলেবাস ভিক্তিক পড়তে হবে, সাজেশন্স ভিক্তিক নয়। পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অনেক সম্ভাবনাময় একটি জেলা। এখানেই রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আম বাজার। এই জেলাটি কাঁসা, রেশম, শীতলপাটিতে অনেক বিখ্যাত। এসবের সকল তথ্য তোমাদের জানতে হবে। ইন্টারনেটের ব্যবহার করতে হবে ভালো কাজে। তবেই তোমাদের জীবন হবে সার্থক। তোমাদের বাবা-মায়ের হাড় ভাঙ্গা কষ্ট হবে যথার্থ।
এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী প্রতিযোগিরা লিখিত পরীক্ষা ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. তৌফিকুল ইসলাম, জেলা কালচারাল অফিসার ফারুকুর রহমান ফয়সাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও রেডিও মহানন্দার কথাবন্ধু মো, মাহবুবুল আলম, নামোশংকরবাটী ডিগ্রী কলেজের সহাকরী অধ্যাপক গোলাম ফারুক মিথুন, নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিলুফা ইয়াসমিন। মোট ১০টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি থেকে ১০জন করে ১শ জন অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষা ৯০ নম্বর ও উপস্থিত বক্তৃতায় ১০ নম্বর মিলে মোট ১শ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষা ও উপস্থিত বক্তৃতা শেষে ১শ জনের মধ্য থেকে ২৫ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। “ঝটপট” প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ২৫ জনের মধ্যে চূড়ান্তভাবে ১০জনকে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত ১০ জন আগামীতে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরী সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হল- নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজ, রানীহাটি ডিগ্রী কলেজ, নয়ালাভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রামেশ্বর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, প্রসাদপুর ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, নাচোল এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নাচোল উপজেলা স্কুল।  সম্মেলনের মিডিয়া পার্টনার ছিল রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএম ও দৈনিক গৌড় বাংলা।