বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদে বিজিবির আহ্বানে বিজিবি ও বিএসএফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে সৌজন্যমূলক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের সোনামসজিদ বিওপির সম্মেলন কক্ষে এ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ৯ সদস্য দলের নেতৃত্ব দেন ৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. রাশেদ আলী এবং ভারতের পক্ষে ১৩ সদস্য দলের নেতৃত্ব দেন ২৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী অনিল কুমার হটকার।
৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. রাশেদ আলী জানান, বিএসএফ কমান্ড্যান্ট সীমান্ত শূন্য রেখার ১৫০ গজের মধ্যে সীমান্ত পিলার ১৭৮/৫-এস হতে ১৭৯/৪-এস পর্যন্ত ১৩৯২ মিটার এবং সীমান্ত পিলার ১৮১ মেইন হতে ১৮২/৭-এস পর্যন্ত ৪১০০ মিটার এক সারি বিশিষ্ট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ব্যাপারে প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশী নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় আম বাগানে যাওয়া, গবাদি পশু এবং অন্যান্য নিষিদ্ধপণ্য চোরাচালানীর জন্য ভারতে যাওয়া, বিএসএফ সদস্যদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ এবং জাল নোট পাচার প্রতিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এর জবাবে বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্নেল রাশেদ আলী বিএসএফ প্রতিনিধিদলকে বলেন, সীমান্ত শূন্য রেখার ১৫০ গজের মধ্যে তারকাঁটার বেড়া নির্মাণের বিষয়ে প্রাপ্ত প্রস্তাবটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করা হবে। এছাড়াও বাংলাদেশী নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম ও বিএসএফ সদস্যদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপের সত্যতা প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো বাংলাদেশী নাগরিক বা দূস্কৃতিকারী সীমান্তের শূন্য রেখা অতিক্রম করে এ ধরনের কোনো ঘটনা সংঘটিত করতে না পারে সে বিষয়েও ভবিষ্যতে সর্তক দৃষ্টি রাখা হবে বলে অধিনায়ক রাশেদ আলী বিএসএফ কমান্ড্যান্টকে আশ্বস্ত করেন। বিজিবি অধিনায়ক সীমান্তে বসবাসরত নিরীহ জনসাধারণের উপর ভবিষ্যতে গুলিবর্ষণ ও নির্যাতন না করা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার রোধ করা, অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক পাচার প্রতিরোধ করা এবং নিñিদ্র সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষে তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে সকল সীমান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে বিএসএফ কমান্ড্যান্টের সাথে আলোচনা করেন। বৈঠকে সীমান্তে বিরাজমান শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তির আলোকে উদ্ভুত যে কোনো সমস্যা উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে আন্তরিক ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সৌজন্য পতাকা বৈঠক শেষ হয়।

SHARE