নৌকায় সমর্থন সুশীল সমাজের: জমে উঠেছে ভোটের হিসেব

দুয়ারে কড়া নাড়ছে সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচন। চলছে প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে। দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। প্রচারণায় আছে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগও। গত কয়েকদিনের প্রচার-প্রচারণা কতটা স্বাভাবিক ছিল, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেমন- এসব বিষয়ে মতবিনিময় সভা ও সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। উল্লেখ্য, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) য়নির্বাচনে ভোটের মাঠে লড়বেন ২১৭ প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে পাঁচজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫২ জন।

রাসিক নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) হাবিবুর রহমান, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সফিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ। আগামী ৩০ তারিখকে সামনে রেখে জোরেশোরেই চলছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা ও জনসংযোগ। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ড ৩০টি ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ১০টি। মোট ভোট কেন্দ্র ১৩৮টি। ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন।

উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রশংসা করেন। বক্তারা বলেন, “বড় ধরণের গোলযোগ না হওয়ায় নির্বাচনী পরিবেশ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনেকটা শান্তিপূর্ণ রয়েছে। এটাই রাসিক নির্বাচনের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।” মূলত ৫ জন মেয়র পদপ্রার্থী হলেও মূল লড়াইটা হবে বুলবুল ও লিটনের মাঝেই। ভোটের মাঠে কে জিতবে তা বুঝা যাবে নির্বাচনের পর। তবে ইমেজ এবং অতীত আমলনামায় খায়রুজ্জামান লিটনকেই এগিয়ে রাখছেন রাজশাহীর সুধীজনেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুশীল সমাজ এবং শিক্ষক ও পেশাজীবীরা লিটনের কাজের প্রশংসা করেন। বুলবুলের মেয়র থাকাকালীন নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং কারাবাসের কথা তুলে আনেন বক্তারা।

নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থী বাছাই করে আনতে চান রাসিকবাসী। আর তাই সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রচারণার পক্ষে মত সুধী সমাজের।

—আজিজ পাশা, লেখক।