বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর উদার হচ্ছে চীন

12

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়া চীন বাকি বিশ্বের জন্য তাদের দুয়ার খুলে দিতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিজেদের অর্থনীতির একটি বিপুল অংশ আরও উদার করার ঘোষণা দিয়েছে চীন। গত বৃহস্পতিবার চীনা সরকারের ঘোষণায় রেলওয়ে, জাহাজ পরিবহন ও বিদ্যুৎ শিল্পে চলমান বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের বাধা অপসারণ অথবা নমনীয় করার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে তুলে নেওয়া হলেও বহাল থাকছে এক ডজনের বেশি বাধা। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সংঘাতে জড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত মাসে হোয়াইট হাউসের তরফে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি’তে চীনের বিনিয়োগে বাধা দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। আমেরিকান বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরির অভিযোগ তুলে তার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগের সীমা নির্দিষ্ট করার ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই সাম্প্রতিক ঘোষণা দিলো চীন। চলতি সপ্তাহে ঘোষণা করা চীনা পরিকল্পনা আগামি ২৮ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তারপরও মিডিয়া, ইন্টারনেট ও কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে তারা। এই বছরের শুরুতে চীন জানায়, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য জুনের শেষ নাগাদ বেশ কয়েকটি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ওই ঘোষণার আওতায় বেইজিং সাম্প্রতিক ঘোষণা দিয়েছে বলে মনে করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনোমিকসের এশিয়া ইকোনোমিকসের প্রধান লুইস খুইজস। তিনি বলেন, পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিজেদের পরিকল্পনা ঘোষণা করছে চীন। ট্রাম্প টিমকে আশ্বস্ত করার চেয়ে চীন বাকি বিশ্বের জন্যই তাদের অর্থনীতির দুয়ার খুলে দিচ্ছে বলে মনে হয়।’ অটোমোবাইল এবং আর্থিক সেক্টরে এসব পরিবর্তনের কিছু বিষয় আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। চীনের সাম্প্রতিক এই ঘোষণাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছে সেখানকার মার্কিন ব্যবসায়ীদের পরামর্শকদের একটি গ্রুপ। চীনের আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম জারিত বলেছেন, রেলওয়ে, জাহাজ পরিবহন ও পাওয়ার সেক্টরে কিছু বিনিয়োগ বাধা অপসারণের মাধ্যমে চীন দেখাতে চায় তারা আরও বাধা অপসারণে প্রস্তুত। বিদেশি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখায় দীর্ঘদিন ধরেই বেইজিংয়ের সমালোচনা করছে পশ্চিমা দেশগুলো। চীনা নেতারা বলে আসছেন, সুবিধা মতো সময়ে ধারাবাহিকভাবে এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।