বিশ্ববাজারের চাহিদায় পাটের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ফেরাতে নানামুখী উদ্যোগ

7

বিশ্বব্যাপী পাটের বাণিজ্যিক গুরুত্ব কমেনি। মূলত পাটপণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনো ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ এখনো বিশ্বের একটি প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ। কিন্তু তারপরও চাহিদা মেটাতে সিংহভাগ পাটবীজ আমদানি করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে পাটের হারিয়ে ফেলা অর্থনৈতিক গুরুত্ব ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর তার অংশ হিসেবে এবার প্রায় ৭ লাখ কৃষকের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট চাষ ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পাট খাত দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ১০ শতাংশ এবং জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ৪ শতাংশ। রফতানি আয়ের ৫ শতাংশ আসে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে। ১৯৭০ সালের আগ পর্যন্ত পাট উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। ওই সময় দেশে ৮ লাখ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হতো, যা কমতে কমতে বর্তমানে ৪ লাখ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। চাষের জমি কমার পাশাপাশি কমেছে গুণগত মানসম্পন্ন পাটের উৎপাদন। ওই সময়ে পাটের উৎপাদন ৬৮ লাখ বেল হতে কমে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ বেল হয়েছে। পাট ও পাটবীজ উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তি ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে আঞ্চলিক ও বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যকে একটা মানসম্পন্ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
সূত্র জানায়, দেশে পাটবীজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন। তার মধ্যে সরকারিভাবে মাত্র ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন সরবরাহ করা হয়। তাছাড়া কৃষকদের মধ্যে এখনো কম ফলনশীল ও দুর্বল জাতের দেশীয় পাট চাষের প্রবণতা রয়েছে। ফলে পাট চাষ শেষ পর্যন্ত আর লাভজনক হয়ে ওঠছে না। এমন পরিস্থিতিতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পাট চাষ বেশি হয় দেশের এমন ৪৬ জেলার ২৩০ উপজেলার কৃষকদের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাতে ব্যয় হবে ৩৭৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আগামী ৫ বছরে ৮০ লাখ বেল উচ্চফলনশীল তোষা পাট উৎপাদন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রচলিত পাট চাষের জমিতে ৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন উচ্চফলনশীল পাটবীজ উৎপাদন ও কৃষকদের উন্নত পাট পচন পদ্ধতি অনুসরণে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ওই প্রকল্পে আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষ, উন্নত পাটবীজের প্রচলন ও বিকাশ ঘটাবে। সরকার প্রাথমিকভাবে পাটের রফতানি ২ বিলিয়ন ডলারে নেয়ার টার্গেট ঠিক করেছে।
সূত্র আরো জানায়, পাটের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে গৃহীত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কম জমিতে উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে অধিক পরিমাণে পাট উৎপাদন করা সম্ভব হবে। চলতি বছর থেকে মার্চ ২০২৩ সাল মেয়াদে পাট পরিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। আর প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার কৃষকের অংশগ্রহণে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আগামী ৫ বছরে ৭০ থেকে ৮২ লাখ বেল উচ্চফলনশীল তোষা পাট উদৎপাদন। তাছাড়া ৩৬ জেলার ১৫০ উপজেলায় প্রতি বছর সাড়ে ৭ হাজার কৃষকের অংশগ্রহণে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে প্রকল্প মেয়াদে নিম্নমানের পাটবীজের পরিবর্তে ৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন উচ্চফলনশীল পাটবীজ উৎপাদন এবং ২৮ জেলার ১০০টি উপজেলায় উন্নত পাট পচন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ওসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ৪ লাখ ২০ হাজার পাটচাষী, ৫৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বর্তমানে পোশাক খাত থেকেই দেশের রফতানি আয়ের বেশির ভাগ আসে। কিন্তু উন্নত অর্থনীতির দেশ হতে হলে রফতানিতে বহুমুখীকরণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে পাট। পাটের বাণিজ্যিক গুরুত্ব কমেনি। পাটপণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গৃহীত প্রকল্পে আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষ, উন্নত পাটবীজের প্রচলন ও বিকাশ ঘটাবে। সরকার প্রাথমিকভাবে পাটের রফতানি ২ বিলিয়ন ডলারে নেয়ার টার্গেট ঠিক করেছে।