ভ্যাপসা গরমকে উপেক্ষা করে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়

ডি এম কপোত নবী : “ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”। এক মাস রোজা শেষে মুসলমান ধর্মের সব চেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এ উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে অনাবিল আনন্দের শান্তিময় এক পরিবেশ। ছোট বড় সকলের মাঝে ব্যাপকহারে তৈরি হয় মিলনের এক মুহূর্ত। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র খুশির ঝিলিক লক্ষ্য করা যায়।

ঈদের ছুটিতে তাইত ছোট বড়, শিশু বৃদ্ধ সকলেই বেরিয়ে পড়েন এক অনাবিল আনন্দের অন্বেষণে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। তবে চাঁপাইনবাবঞ্জ শহরে ঠিক বিনোদন কেন্দ্র নাকলেও হাতে গোনা যে কয়টি বিনোদন স্পট রয়েছে এবারের ঈদের ছুটিতে সেসব স্থানে ব্যাপক লোকসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে সবাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্যে ছুটে গেছেন সে সব স্থানে।


শহরের বীর শ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সেতু, শেখ হাসিনা সেতু, দক্ষিণ শহর পার্ক, বাবু ডাইং, রুহুল বাঁধ, ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ, তোহাখানা, সোনামসজিদ গৌড় শিশু পার্ক, হর্টিকালচার সেন্টার, শিশুপার্কসহ এ সকল স্থানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ পরিবারের সকল সদস্য নিয়ে কেউ বা ছোট সন্তানদের নিয়ে কেউ বা প্রিয়তমাকে নিয়ে, যে যেভাবে পেরেছেন এ আনন্দে সামিল হয়েছেন।
সকালে তপ্ত রোদ আর গরমে তেমন কেউ বের না হলেও বিকেল থেকেই যেন সকলে পরিবার পরিজন নিয়ে বের হয়েছিলেন। এবার বারঘরিয়ার দৃষ্টি নন্দন পার্কে যেন বসেছিল ঈদ মেলা। মাঠে বসেছে বিনোদনের জন্য নাগর দোলা। শিশু থেকে শুরু করে বড়রাও নাগর দোলায় চড়ে আনন্দ উপভোগ করেছেন। এ সুযোগে প্রায় অর্ধশতাধিক ফুচকার দোকান বসেছিল। ছিল পাপড়,বাদামসহ হরেক রকম মুখরোচক খাবার।

মানুষের পদচারণায় সামান্য হলেও এ সব স্থানে যানজটের কবলে পড়তে হয়েছে ঘুরতে আসা মানুষজনকে। এ সুযোগে অটোরিকশার কোনো কোনো চালক বাড়তি ভাড়া আদায় করেছে। সর্বত্র এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে। যার ফলে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ঘুরতে আসা শহরের পুরাতন বাজারের একটি পরিবারের সাথে কথা বললে তারা জানান, কাজের জন্যে পরিবার নিয়ে ঘুরাঘুরি করা হয় না। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। নদী দেখব বলে এসেছিলাম, সাথে আমাদের নৌকা ভ্রমণও হয়ে গেল। তাই খুব ভালো লাগছে।
শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় ঘুরতে আসা শহরের প্রফেসর পাড়ার এক পরিবারের সদস্যের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ঈদ কেমন কাটছে ? জবাবে তিনি বললেন খুব ভালো লাগছে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে, তবে ভিড়টা অনেক অনেক বেশি। তবুও বিভিন্ন স্থানে ঘুরছি, কারণ এমন খুশির দিনতো আর প্রতিদিন পাব না। এমন অনেক পরিবারের সাথে কথা বললে সকলেই জানান ঈদের পরিবেশ খুব ভালো, আমাদের ঘুরতে বা রাস্তাঘাটে কোনোরকম সমস্যায় পড়তে হয়নি। অটোরিকশা কিংবা রিকশাও পেয়েছি সময়মত তবে ভাড়াটা একটু বেশি নিয়েছে কেউ কেউ।
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। সে আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে তাইত মানুষ পিছপা হন নি। যে যেভাবে পেরেছেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন। বছর ঘুরে ঈদ এসেছে বলেই মানুষের ঘরে ঘরে আজ উৎসব হচ্ছে। যা আরো বেশ কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

SHARE