মোদীকে প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিতে হেঁটে ৮০০ মাইল পথ পাড়ি

হাসপাতালের আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দিতে পায়ে হেঁটে ৮০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ৩০ বছর বয়সী এক যুবক। গন্তব্য থেকে ২১৮ কিলোমিটার দূরে বেহুঁশ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে মূর্তি-কারিগর মুক্তিকান্ত বিশালকে আগ্রার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি ফের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে রওনা হন, জানিয়েছে এনডিটিভি ও বিবিসি। ওড়িষার রৌরকেলার বাসিন্দা বিশাল জানান, ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদী তাদের গ্রামে গিয়ে রাজ্যের ইস্পাত জেনারেল হাসপাতালকে দিল্লির বিখ্যাত অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এআইএমএস) মত বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিন বছরেও হাসপাতালটির কোনো ধরনের পরিবর্তন দেখতে না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই পায়ে হেঁটে দিল্লির পথ ধরেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাগে নেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এরপর হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে ১৬ এপ্রিল দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। প্রচ- গরম ও প্রতিকূল আবহাওয়ার বাধা অতিক্রম করে প্রায় সাড়ে ১৩শ কিলোমিটার (৮৩৮ মাইল) পথ পাড়ি দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশাল। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আগ্রার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এ মূর্তি-কারিগর। প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০১৫ সালে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও আমাদের হাসপাতালটির পরিস্থিতি একই রকমই আছে। আমার গ্রামের মানুষ ভালো স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নতির জন্য অপেক্ষা করে আছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হলে আমি রৌরকেলার ব্রাহমানি সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত ও ইস্পাত জেনারেল হাসপাতালকে সর্বাধুনিক হাসপাতালে পরিণত করার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিব,” বলেন বিশাল। ভারতের অধিকাংশ মানুষ এখনও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, অনেকেই নূন্যতম চিকিৎসা সুবিধাও পাচ্ছেন না, মন্তব্য তার। তাদের কষ্টই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি জানিনা প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে দেখা করবেন কি না, যদি না করেন তাহলে আমি অনশনে বসবো, বলেন এ যুবক।
বিশালের এই যাত্রা প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদী এখনও কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
কংগ্রেসপ্রধান রাহুল গান্ধী টুইটারে ওড়িষার এ মূর্তি-কারিগরের হার না মানা উদ্যমের প্রশংসা করেছেন। বিশালকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কীভাবে তা করা হবে তার বিস্তারিত জানাননি তিনি। টুইটের জন্য কংগ্রেস সভাপতিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিশাল। এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ ৩০ বছর বয়সী এ যুবক দিল্লি পৌঁছাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

SHARE