রুশদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু যখন সালাহ

9

প্রথমে বেদনা। পরে আশঙ্কা। তারপর আশা। এই তিন রকম অনুভূতির সঙ্গে যিনি ফুটবলভক্তদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তার নামটি যে কি, সেটা নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন। হ্যাঁ, মোহাম্মদ সালাহ্। ফুটবলবিশ্বের সবার জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই ফরোয়ার্ড অবশেষে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের মিসরীয় স্কোয়াডে। স্কোয়াডের সবাই ইতোমধ্যেই দেশটির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতও করেছে। যেখানে সালান্দের শুভকামনা জানিয়েছেন দেশটির অধিকর্তা।গত ২৬ মে কিয়েভে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে ভয়াবহ চোট পান সালাহ্। স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার সার্জিও রামোসের বাজে ফাউলের শিকার হন ইংল্যান্ডের লিভারপুল এফসির সালাহ্। ওই ফাউলের কিছুক্ষণ পরেই অসহ্য যন্ত্রণায় অশ্রুজলে বুক ভাসিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। অনেকেই মনে করেন তার বিদায়ের কারণেই মূলত ম্যাচে হেরে যায় ইংলিশ ক্লাবটি। ওই ম্যাচের পরেই ফুটবলপ্রেমীদের দুশ্চিন্তায় পেয়ে বসে বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন তো ২৫ বছর বয়সী সালাহ্? ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় জানা যায় বিশ্বকাপ শুরুর আগে চোট পুরোপুরি না সারলেও অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠবেন ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার সালাহ্। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন তার ভক্ত-সমর্থক-অনুরাগীরা।তবে চোটের পর থেকে সালাহ্কে নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে নানা গুজব। পুরো বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন তো তিনি? এমনকি বিশ্বকাপে দলটির উদ্বোধনী ম্যাচে তার খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়ের।এই যখন পরিস্থিতি তখন সালাহ্ সম্পর্কে জানা গেছে সর্বশেষ তথ্য। আর তা হলো রবিবার কায়রোতে মিসর জাতীয় দলের শেষ অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড। যদিও বাকিদের মতো অনুশীলন করেননি। ফলে মিস করেছেন অনুশীলনের প্রথম সেশন। সালাহ্র অভিষেক বিশ্বকাপের সঙ্গে মিলে গেছে দীর্ঘ ২৮ বছর পর মিসরের বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে যোগ্যতা অর্জন করতে পারার উপলক্ষটি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন প্রাপ্তিতে স্বভাবতই স্বপ্নটা এখন আরও বড় মিসরের। তবে মিসরের সেই স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে দলের সেরা খেলোয়াড় প্রাণভোমরা সালাহ্র অনাকাক্ষিত এই ইনজুরি। আগামী শুক্রবার ল্যাটিন আমেরকিার দেশ এবং দু’বারের বিশ্বকাপ জয়ী উরুগুয়ের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি খেলবে ‘দ্য ফারাওস’ খ্যাত মিসর। তবে ওই ম্যাচে সালাহ্ আসলেই খেলতে পারবেন কিনা সেটা এখনও জানা যায়নি। কারণ এ প্রসঙ্গে পরিষ্কার করে কিছুই বলেননি দলের আর্জেন্টাইন কোচ হেক্টর কুপার। তবে প্রথম ম্যাচ থেকেই প্রথম একাদশে খেলতে মরিয়া এবং আশাবাদী জাতীয় দলের হয়ে ৫৭ ম্যাচে ৩৩ গোলের মালিক সালাহ্। জাতীয় দলের রাশিয়া যাত্রায় হাসিমুখেই দেখা গেছে তাকে। ‘প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে আছি। বিষয়টি ভাবতেই ভীষণ রোমাঞ্চিত অনুভব করছি। আশাকরি ¯্রষ্টার কৃপায় আমি সব ম্যাচেই খেলতে পারব। তবে জোর দিয়ে বলতে পারছি না আমরা কতদূর পর্যন্ত যাব। যতদূরই যাই না কেন, আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়েই খেলব। আশাকরি ফল খারাপ হবে না।’ সালাহ্ ভাষ্য। মিসরের জাতীয় দল তাঁবু গাড়ছে রাশিয়ার গ্রোজনিতে। ইন্সটাগ্রামে দলের সবার সঙ্গে সালাহ্ হাস্যোজ্জ¦ল ছবি পোস্ট দিয়েছে মিসর ফুটবল ফেডারেশন। গ্রোজনিতে বেশকিছু মিসরীয় মেডিক্যাল শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় ফুটবল নায়ক সালাহ্কে এক নজর দেখতে ভিড় করেছেন অনুশীলন ক্যাম্পের সীমানায়। তারা মনে করেন আগামী ব্যালন ডি’অর জেতার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এবং ব্রাজিলের নেইমারের মতো মিসরের মোহাম্মদ সালাহ্ও অন্যতম দাবিদার। সেখানে অবস্থিত রুশ মুসলিমরাও বেশ আগ্রহী সালাহ্কে নিয়ে। কারদিরভ নামের একজন রুশ ফুটবলপ্রেমী বলেন, ‘সালাহ্ অবশ্যই একজন ভাল ফুটবলার এবং এই মুহূর্তে তিনিই বিশ্বের সেরা।’মেসি-রোনান্ডো-নেইমারের মতো ফুটবলার থাকতেও রুশরা যেভাবে সালাহ্কে নিয়ে মাতামাতি করছে, সেটার প্রতিদান আসন্ন বিশ্বকাপে দিতে পারবেন তো সালাহ্?-