কোরআনের কাহিনীগুলো সুন্দর জীবনের জন্য জানা আবশ্যক

রমজান মাস খুবই নিকটে। রমজান মাসকে বলা হয়, কোরআনের বসন্তের মাস। ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, ইহ ও পরকালীন সাফল্যের জন্য রমজান মাসে কোরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
কারণ, পবিত্র কোরআনে বর্ণিত কাহিনীগুলোর মধ্যে এমন সব শিক্ষা রয়েছে, যা সুন্দর জীবনযাপনের জন্য অতীব জরুরি। সুতরাং আমরা যদি কোরআনে কারিমের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে পারি তাহলে আমরা যা চাইব, তা কোরআন থেকে অর্জন করতে পারব।
এক্ষেত্রে আলেম-উলামাদের দায়িত্ব হলো, কোরআনের বিষয়াবলী সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানো এবং কোরআন অর্থ ও তাফসিরসহ পড়তে তাদের উদ্ধুদ্ধ করা। কোরআনে নানা প্রসঙ্গে প্রায় ২৬৮টি কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিটি কাহিনীতে রয়েছে মানুষের জন্য শিক্ষা।
মানুষকে কোরআন শিক্ষা দেওয়া প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতগুলো তেলাওয়াত করবেন, তাদের কিতাব শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন।’ -সূরা বাকারা: ১২৯
আল্লাহর নবী হজরত রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নির্দেশ ছিলো- প্রথমত, আমার আয়াতগুলো তেলাওয়াত করবেন। দ্বিতীয়ত, আসমানি কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন। তৃতীয়ত, তাদের (মানুষকে) পবিত্র করবেন অর্থাৎ মানুষের চরিত্র শুদ্ধি করবেন। মানুষের এই পরিশুদ্ধি অর্জিত হবে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।
এখানে প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো, কোরআন তেলাওয়াতের সম্পর্ক শব্দের সঙ্গে এবং শিক্ষাদানের সম্পর্ক অর্থের সঙ্গে। কোরআন তেলাওয়াত ও শিক্ষাদান পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হওয়ার মর্মার্থ এই যে, কোরআনের অর্থসম্ভার যেমন উদ্দেশ্য, শব্দসম্ভারও তেমনই একটি লক্ষ্য।
ইসলাম মনে করে, কোরআনে কারিমের অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা এবং তার বিধিবিধান পালন করা যেমন ফরজ ও উচ্চস্তরের ইবাদত, তেমনই তার শব্দ তেলাওয়াত করাও একটি স্বতন্ত্র ইবাদত ও সওয়াবের কাজ। তাই অর্থ না বুঝে কোরআনের শব্দ পাঠ করা নিরর্থক নয়; বরং সওয়াবের কাজ।
তবে কোরআনকে হৃদয়ঙ্গম করতে তাফসির বেশি ভূমিকা রাখে। তাই তো দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাফসির মাহফিল নামে সেসব আলোচনা হয়, তাতে বিপুল সংখ্যায় সাধারণমুসলমান উৎসাহের সঙ্গে শরিক হন। এতে কোরআনে কারিমের প্রতি জনগণের আগ্রহ ও ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়।
লেখার শুরুতে কোরআনের কাহিনি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মনে রাখতে হবে, গল্প বলা কিংবা ইতিহাস চর্চা এসব কাহিনীর মূল উদ্দেশ্য নয়। এগুলো বলার মূল উদ্দেশ্য হলো- জীবনে ধৈর্য, সাহস, দৃঢ়তা ও নিষ্ঠার শিক্ষা গ্রহণ করতে শেখা।
নবীদের বিরোধিতার মারাত্মক পরিণাম সম্পর্কে জেনে, তা থেকে বিরত থাকা। হক ও বাতিলের সংঘর্ষ যে চিরন্তন, সেটা অনুধাবন করা। সেই সঙ্গে এটা মনে রাখা, আল্লাহতায়ালা শক্তিবলে মানুষকে হেদায়েত করার দায়িত্ব দেননি। মানুষকে শুধু বুঝাবার চেষ্টা করাই মূল দায়িত্ব। অর্থাৎ মানুষ হক কবুল করতে রাজী না হলে, আল্লাহ জবরদস্তি করে কোনো জাতিকে হেদায়েত দেন না। হককে কবুল করা ও না করা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।