রাস্তায় পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম : পুরাতন বাজারে অবৈধ ভ্রাম্যমান দোকান ও বিলবোর্ড অপসারণ

পাল্টে গেছে চিরচেনা প্রাচীন পুরাতন বাজারের চিত্র

ডি এম কপোত নবী : চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুরাতন বাজারে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে রাস্তার উপর থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ। এছাড়া রাস্তার উপর ভ্রাম্যমান সবজি দোকান, পেঁয়াজের পাইকারি অস্থায়ী দোকান, দোকানের সামনের মালামাল, দোকানের উপর বিল বোর্ড ও টিনের ছাউনি এ সবকিছু উচ্ছেদ করে যান চলাচলের জন্য মুক্ত করা হয়। সকাল সাড়ে ৯ টায় পুলিশের উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি পৌর সভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর কমকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম নিজে রাস্তায় থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান তদারকি করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশ সুপার তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে থেকে এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় তাঁর সাথে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনজুর রহমান, ইনচার্জ তদন্ত আতিকুল ইসলাম, এসআই, এএসআই, ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে।


সকাল ১০ টায় পুরাতন বাজার ডাকঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দৈনিক গৌড় বাংলাকে টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম বলেন, আপনারা জানেন এ রাস্তাটিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল, সদর মডেল থানা, চেম্বার ভবন, প্রধান ডাক ঘর, রেজিষ্টি অফিস, ব্যাংক বীমাসহ বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এখানে আছে। রাস্তার উপর কাঁচা ভ্রাম্যমান পাইকারি বাজার, ফুটপাত দখল, দোকানের সামনে মালামাল রাখা, দোকানের উপর টিনের ছাউনি বিলবোর্ড স্থাপন করার কারণে রাস্তার পরিধি দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে জরুরী ভাবে হাসপাতালে কোন রোগিকে নিয়ে যেতে হলে যথেষ্ট সমস্যার সমুক্ষীণ হতে হয় সাধারণ জণগনকে। তাছাড়া থানা থেকে জরুরী ভাবে কোন গাড়িও যেতে পারে না গন্তব্যে।

তিনি আরো বলেন, আজ আমি নিজে রাস্তায় নেমেছি আপনাদের সুবিধার জন্য। যে কাজটি পৌর কর্তপক্ষ সদস্যরা করবে। কিন্তু তাঁরা নিয়মিত তদারকি না করার কারণে মানুষের চলাচলে দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছিল। অনেক মানুষ আমাকে অভিযোগ পর্যন্ত দিচ্ছে। তাই তাঁদের অভিযোগ এর উপর সম্মান রেখে নিজেই রাস্তায় নেমেছি।


আজ আমি শুরু করলাম, আশা করি পৌর মেয়র এখন থেকে নিয়মিত এসব তদারকি করবেন। কোন অবস্থাতে যেন রাস্তার উপর কেউ মালামাল রেখে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে না পারে। পৌর সভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরও যেন গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি প্রতিনিয়ত মনিটরিং করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, এখন থেকে প্রতিদিন পুরাতন বাজারে ২ জন করে পুলিশ দায়িত্বে থাকবেন। তাদের কাজ হবে রাস্তার উপর এবং দোকানের সামনে যেন কেউ মালামাল রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার ব্যবসা বাণিজ্য করেন কোন সমস্যা নেই। আপনাদের যে কোন প্রয়োজনে পুলিশ আপনাদের সহায়তা দেবেন। কিন্তু দয়াকরে আপনারা সরকারি কিংবা পৌরসভার স্থানে ভ্রাম্যমান দোকান নিয়ে বসবেন না। আপনার কারণে যেন অন্য যাতায়াতকারী মানুষের সমস্যা না হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌর মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গৌড় বাংলাকে জানান, শহরে শুধু পুরাতন বাজার নয়, প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে আমরা অবৈধ দখলদার মুক্ত করতে অভিযান চালায়। এর জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান কমিটি কাজ করছে। প্রত্যেক সপ্তাহে এ কমিটি তদারকি করে থাকেন। মেয়র আরো বলেন, পুলিশ সুপার আজ নিজে নেমে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন। পুলিশ সর্বদা আমাদের কাজে সহায়তা করে থাকেন। আমরা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিয়মিত এ অভিযান চালিয়ে যাব। আমি পৌরবাসীকে বলতে চায়, আমাদের কাজে আপনারা সহায়তা করুণ। যানযট নিরসনে ফুটপাত মুক্ত ও রাস্তার উপর ভ্রাম্যমান দোকান বসাবেন না। আমরা চেষ্টায় আছি পুরাতন বাজার অন্য কোথাও সরানো যায় কিনা। এ ব্যাপারে সকলের মতামত নিয়েই কাজ করা হবে।


তিনি আরো বলেন, রাস্তার উপর দোকান দেয়ার কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। এটি একটি ব্যস্ত সড়ক। এই সড়ক সব সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে এই সড়ক দিয়ে অসুস্থ বা জরুরি কাজে যেতে বিলম্ব হয়।

অভিযানের সময় বিভিন্ন ব্যাংক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের রাস্তায় মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রোবাস যেন পার্কিং না করে সে ব্যাপারেও আহবান জানানো হয়। যত্রতত্র গাড়ী মোটরসাইকেল পার্কিং করার কারণেও রাস্তায় যানযটের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

কামাল উদ্দিন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে থানা মোড় পর্যন্ত এ অভিযান চলে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চলবে বলে সংস্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

SHARE