বিএনপির মহিলা দলের ইফতার নাটক ও খালেদা জিয়ার ৩৯ টাকার ইফতার!

17

গত ১৮ মে ছিলো মাহে রমজানের প্রথম রোজা। তাই বিএনপির মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বে ৩৩ জন কর্মী পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন সড়কের কারাফটকে ইফতার সামগ্রী নিয়ে হাজির হন। এর ঘণ্টাখানেক পর বিকেল ৪টার দিকে বিএনপির ঢাকা জেলার কর্মীরাও প্রায় ১৫ জন জেলগেটে ইফতার সামগ্রী নিয়ে হাজির হন বেগম জিয়ার জন্য।

জানা যায়, কারাবন্দি যেকোন আসামির সঙ্গে দেখা করা বা খাবার পাঠানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট কারাবিধি রয়েছে। বিধি অনুযায়ী, যেকোন বন্দিকে শুধুমাত্র তার পরিবারের সদস্যরাই ১০ দিন অন্তর দেখা করা বা খাদ্য-সামগ্রী পাঠানোর জন্য আবেদন করতে পারেন। এর বাইরে রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে হয়। কিন্তু মহিলা দলের কর্মীরা সেসব কিছুই করেননি। ইফতারের সময় হবার অনেক আগেই বেলা ৩টার দিকে ইফতার সামগ্রী নিয়ে হাজির হলেও তারা সেসময় সেলফি তোলা ও খোশ গল্পেই মত্ত ছিলেন। ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে তাড়াহুড়ো করে একটা ছেড়া কাগজে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।

এ প্রসঙ্গে সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. আল আমিন বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার জন্য ইফতার সামগ্রী পাঠাতে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেনি বলেই তা নাকচ করা হয়েছে।’ ছেড়া কাগজে আবেদন করেছেন এবং তাও একদম ইফতারের পূর্বেই। যেকোন আবেদন পেশ ও মঞ্জুর হতে যে ন্যূনতম সময়ের প্রয়োজন হয় তাও তারা দেননি।

এছাড়া বেগম জিয়া অসুস্থতাজনিত কারণে রোজাও রাখতে পারেননি বলে জানা যায়। দুপুরে তিনি আহার গ্রহণের পর ওষুধ সেবন করেন। তিনি ইফতার করবেন না বলে জানান। তাই তার জন্য সে ব্যবস্থাও করা হয়নি। অথচ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বেগম জিয়ার জন্য ৩৯.৫০ টাকার ইফতার বরাদ্দ করা হয়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সূত্রমতে, কারাবিধি অনুযায়ী, এমন বন্দিদের জন্য সাড়ে উনচল্লিশ টাকার ইফতার বরাদ্দ থাকলেও বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে তার ইচ্ছানুযায়ী ইফতারের ব্যবস্থা করা হতো কেননা, বিশেষ বিবেচনায় তার জন্য কাজের মেয়ে রাখার মতো অনেক ক্ষেত্রেই কারাবিধির চাইতে অনেক বেশি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

কাজেই যিনি অসুস্থজনিত কারণে রোজাই রাখতে পারছেন না, তার জন্য কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইফতার নিয়ে যাওয়া আর সাড়ে উনচল্লিশ টাকার ইফতার প্রদানের মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে উস্কে দেয়া উচিৎ নয় বলেই মনে করছেন সুশীল সমাজ।