শিক্ষকতার পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করছেন জেমি


নারী তুমি এগিয়ে চলো। কাজই আমার স্বপ্ন, কাজই আমার প্রেরণা, কাজই আমার চলার পথের সাথী, এই এগিয়ে চলার পথে যত জনকে সঙ্গে নিতে পারবো ততোই আমার আনন্দ। কথাগুলো বলছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের দাউদপুর রোডের, কাপড় পট্টির মৃত সিরাজ আলীর মেয়ে শামসুন নাহার জেমি।
নিজে আর বড় ভাই আফসার আলী জনির উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন হ্যান্ডিক্রাফটস। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ থেকে বাসার নিচে ছোট পরিসরে শুরু করেন এ দোকান। বর্তমানে এখানে হাতের তৈরি ওড়না, ওয়ান পিস, টুপিস, থ্রীপিস, সুতী, লিলেন ও জর্জেট কাপড়সহ মেয়েদের নানা রকম পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
শামসুন নাহার জেমি জানান, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজে স্বাবলম্বী হওয়া এবং অন্য নারীদেরকেও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। আমার এখানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন নারী কাজ করছে। কিছুটা হলেও তারা আজ স্বাবলম্বী। নিজেদের খরচের পয়সাটা নিজেরাই রোজগার করতে পারছে। জেমি আরো জানান, তিনি সকল নারী কাঁথা নকশী কাঁথা সেলাই, ওড়নাসহ নানা রকম হাতের কাজ করছেন। দিন দিন অনেক শিক্ষিত বেকার নারীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন এ কাজের প্রতি। ভবিষ্যতে আরো নারীদের আমি সুযোগ করে দিতে চাই।


দোকান থেকে অডার নিয়ে বাড়িতে বসে কাজ করেন নারীরা। ছোটবেলা থেকে জেমির স্বপ্ন ছিল কিছু একটা করার। সেই স্বপ্ন থেকেই শুরু করেন সেলাই এর কাজ। আর সে কারণেই বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ শিখে ফেলেন অল্প সময়ের মধ্যে। বিভিন্ন মার্কেট, মেলা, বই দেখে, বিভিন্ন লোকের কাছে গিয়ে তাদের কাজ দেখে কাপড় কাটা, ডিজাইন করা, সেলাই করা, বাটিক, ব্লক, রং এর কাজ ও কারচুপির কাজ শিখে নেন।
বর্তমানে দোকানের পাশাপাশি একটি কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষকতাও করেন। বাবা মারা গেছেন। ৩ ভাই ২ বোন আর মা রয়েছেন। জেমির স্বপ্ন তিনি একজন স্বাবলম্বী নারী হিসাবে প্রতিষ্ঠা অর্জন।

SHARE