হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ রাইজিং সম্মেলন ২০১৮

বিশ্বমন্দার কারণে পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ যেখানে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রাখতে ব্যার্থ, বাংলাদেশ সেখানে ব্যাতিক্রম। বিশ্বমন্দা আর প্রাকৃতিক দুযোর্গের মাঝেও গত একদশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা উচ্চমুখী, গত ৩ বছর ধরে তা ৭ শতাংশের উপরে রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের মাপকাঠিতে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর এবছরই বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। অল্প সময়ে বাংলাদেশের এমন অগ্রগতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেক অর্থনীতিবিদ।

বাংলাদেশের এমন বিস্ময়কর অগ্রগতির গল্প এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ রাইজিং সম্মেলন ২০১৮’ নামের এক সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, কেমব্রিজের হার্ভার্ড লয়েব হাউজে এই সেমিনার বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত সবচেয়ে বড় একাডেমিক সম্মেলন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশষেজ্ঞরা দিনব্যাপী এই সম্মেলনে আলোচনা, মত বিনিময় ও বিতর্কে অংশ নিয়েছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নের এই গতির চালিকাশক্তি কী এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার আলোকে তা কীভাবে আরও গতিশীল করা যায়, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (আইএসডিআই)।

সম্মেলনের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দিয়েছেন টাফটস ফ্লেচার স্কুলের এর ইন্সটিটিউট ফর বিজনের ইন দ্য গ্লোবাল কনটেক্সট-এর উদীয়মান বাজার উদ্যোগ বিষয়ক ফেলো নিকোলাস সুলিভান।

‘সামষ্টিক অর্থনীতির সম্ভাবনা ও সংস্কার’ বিষয়ে দিনের প্রথম অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। তিনি তার আলোচনায় বাংলাদেশ কীভাবে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করল এবং কী ধরনের নীতি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করবে, বর্তমানে কোন ধরনের সংস্কারে সরকার মনোনিবেশ করেছে- সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ওপর মূল বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের প্রধান সমন্বয়কারী ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে কেন বাংলাদেশই সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান সে বিষয়ে একটি ভিডিও চিত্র দেখান তিনি।

আবুল কালাম আজাদ বলেন বাংলাদেশের পানি ও বিদ্যুৎ খরচ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। এখানে রয়েছে বিশাল এক শ্রম বাজার। রয়েছে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, উর্বর ভূমি এবং ৪০ হাজার হেক্টরের ল্যান্ড ব্যাংক। বর্তমান সরকার বিনিয়োগ বান্ধব। দেশে বিনিয়োগের জন্য রয়েছে রাজনৈতিক অনুকূল পরিবেশ ও প্রতিশ্রুতি। বিনিয়োগকারীদের প্রদান করা হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সুবিধা। সরকার ব্যবস্থাকে গতিশীল করতে প্রতিবছরই বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ২১০০ সালে ডেলটা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার স্বপ্ন অভিযাত্রার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাই বিনিয়োগের জন্য অবধারিতভাবে বাংলাদেশই হচ্ছে সর্বোত্তম স্থান।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কীভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এ সম্মেলনে।