শিক্ষক সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা সরকারি কলেজ পাঠদান ব্যাহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ উচ্চ শিক্ষা লাভে নারীদের পথ দেখানো একটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। যথাযথ পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে বাংলা, ইংরেজি গণিতসহ বর্তমানে ১৬ টি বিষয় চালু রয়েছে।
অধ্যক্ষ ছাড়া এখানে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ রয়েছে ৩২টি। কিন্তু কর্মরত আছেন ১৪ জন। এর মধ্যে বাংলা বিভাগের প্রভাষকের ৩টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১জন শিক্ষক,ইংরেজি বিভাগের প্রভাষকের ৩জনের স্থলে কর্মরত আছেন ২ জন, ইতিহাস বিভাগে প্রভাষকের পদ রয়েছে ৩টি, কর্মরত আছেন ১জন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষকের ২টি পদের মধ্যে আছেন ১জন, দর্শন বিভাগের প্রভাষকের পদ ২টির ২টিই শূন্য, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষকের পদ ২টি কর্মরত আছেন ১জন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষকের পদ ১টি থাকলেও শিক্ষক নেই। কম্পিউটার বিভাগের প্রভাষকের একটি পদ, সেটিও শূন্য, হিসাব বিজ্ঞানে ২টি পদের মধ্যে আছেন ১জন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষকের পদ ২টি কর্মরত আছেন ১জন, পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষকের ৩টি পদ থাকলেও আছেন ২জন, রসায়ন বিভাগের প্রভাষকের পদ ৩টি থাকলেও কর্মরত আছেন ১জন, গণিত বিভাগের ১ টি পদ সেটিও শূন্য, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষকের পদ ১টি, আছেন ১জন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষকের পদ ২টি কর্মরত ১জন, ক্রীড়া বিভাগে কর্মরত একজন, এবং লাইব্রেরিয়ান পদ শূন্য রয়েছে। কলেজটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ হাজার ৫০১ জন। এর মধ্যে একাদশে ৫৭৫, দ্বাদশ শ্রেণিতে ৫৫৯ জন, ¯œাতক (পাস) শ্রেণিতে ৭১ জন এবং ¯œাতক (সম্মান) ইতিহাস বিভাগে ২৯৬ জন। একাদশ, দ্বাদশ ও ¯œাতক শ্রেণিতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু ওই দুই বিষয়ে শিক্ষক আছেন বাংলায় একজন ও ইংরেজি বিষয়ে দুজন। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম বলেন, গণিত, দর্শন, কম্পিউটার ও গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বিভাগে অনেক দিন থেকেই কোনো শিক্ষক নেই। বাংলায় একজন ও ইংরেজি বিষয়ে মাত্র দুজন শিক্ষক আছেন। শিক্ষক-সংকট নিয়ে প্রতিমাসে একবার করে শিক্ষকদের হালনাগাদ তথ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো কাজ হয় না। শিক্ষক সংকটের কারণে পড়ালেখা বিঘিœত হচ্ছে। ভালো অতিথি শিক্ষকও পাওয়া যাচ্ছে না।
ইতিহাস ১ম বর্ষের ছাত্রী তাসলিমা এবং স্নাতক ১ম বর্ষের ছাত্রী রেসমাউল হুসনাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ভর্তি হওয়ার পর একদিন ক্লাস হলে অন্যদিন হয় না।
এ কলেজে ২০০৮-২০০৯ শিক্ষা বর্ষ থেকে একটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে তবে সে বিষয়েও রয়েছে শিক্ষক সংকট। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।