ঢাকার ট্র্যাফিক জ্যাম নিরসনে নতুন প্রযুক্তি আইটিএস

 

ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখেছে ২০০৮ এর নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসা আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই এই দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকা- এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সর্বাধুনিক নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসছে। ২০১৪ এর নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসা আওয়ামী লীগ নানাবিধ সমস্যা নিরসনে প্রযুক্তির দ্বারস্থ হওয়া অব্যাহত রেখেছে। ঢাকার ট্রাফিক নিরসনে অসংখ্য কার্যকরী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ হলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উড়াল সড়ক নির্মাণ এবং মেট্রো রেল নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে যা বাস্তবায়নের পথে আছে বর্তমানে। রাজধানীর ট্র্যাফিক নিরসনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সর্বশেষ সংযোজন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক প্রযুক্তি আইটিএস (ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম) এর ব্যবহার। চার ইন্টারসেকশনে আইটিএস স্থাপনের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প নেয়া হয়েছিল ২০১৬ সালে। সম্প্রতি শুরু হয়েছে এর কাজ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বাস্তবতায় এ ব্যবস্থা সফলতা বয়ে নিয়ে আসবে। তবে ট্র্যাফিক সমস্যা পুরোপুরি নিরসনে এই আইটিএস ব্যবস্থার পাশাপাশি নগরবাসীকে ট্র্যাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পরামর্শ দেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেমে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) বা রাস্তায় বসানো ভেহিকল ডিটেক্টরের (গাড়ি শনাক্তকরণ যন্ত্র) মাধ্যমে গাড়ি সংখ্যা হিসাব করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে একটি লেন দিয়ে কতগুলো গাড়ি পার হয়েছে, সে হিসাব রাখে এ যন্ত্র। এ অনুযায়ী যে লেনে চাপ বেশি থাকে, সেদিকের গাড়িগুলোর জন্য জ্বলে ওঠে সবুজ সিগন্যাল বাতি। কোনো গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করলে সেটিকেও শনাক্ত করা যায়। এছাড়া রাস্তায় থাকা পথচারীদেরও হিসাব করে সে অনুযায়ী পথচারী পারাপারের সংকেত দেয় আইটিএস। সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হয় একটি কন্ট্রোল রুম থেকে।ঢাকার চার ইন্টারসেকশনে আইটিএস পদ্ধতির সিসি ক্যামেরাগুলো ৩০০ মিটার এলাকার যানবাহনের হিসাব রাখতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আইটিএস স্থাপনের পর সেটি পরিচালনার দায়িত্ব ঢাকা মহানগর পুলিশ হেডকোয়ার্টারকে দেয়া হবে।জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহায়তায় গুলশান-১, মহাখালী, পল্টন ও ফুলবাড়িয়া ইন্টারসেকশনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ চার স্থানে পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি সফল হলে তা ঢাকার সবগুলো ইন্টারসেকশনে স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।