সজাগ থাকতে হবে ভোক্তা সাধারণকে রজমানে জনজীবনে স্বস্তি বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার

13

রোজার মাস এলেই একদিকে শোনা যায় অবিরত সংযম-সাধনার ডাক, অপরদিকে চলে নিত্য অসংযম ও অমিতাচার। ভোজন-আহ্লাদে মত্ত থাকা বা কাউকে ভোগ-বিলাসে ডুবিয়ে রাখার জাগতিক কোনো বিষয়ের সঙ্গে রোজার কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্তে¦ও লাখ টন ছোলা এক দিনেই নিঃশেষ হয়ে যায় এই রোজায়। ইফতারির নামে ভোজন উৎসবে একাত্ম হয়ে গেলে তখন এ ধরনের পণ্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরা আদৌ সম্ভব কি না তা সর্বাগ্রে ভাবতে হবে একজন ভোক্তা রোজাদারকে। বাজারে কোনো পণ্যের চাহিদা খুব বেড়ে গেলে তার সুযোগ নেয় অতি মুনাফা লোভি ব্যবসায়ীরা। রোজায় পণ্যের অযাচিত মূল্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ী ও রোজাদার দু’পক্ষই যে অভিযুক্ত তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ব্যবসায়ী এবং রোজাদার ভোক্তারা যদি লুণ্ঠনবৃত্তি ও অসংযমে নিমগ্ন হন তাহলে বাড়ে পণ্যমূল্য, বাড়বে ভোগান্তি। হালাল ব্যবসায় বাণিজ্য তো প্রিয় নবীর (সা.) সুন্নাত। কিন্তু ব্যবসার আড়ালে প্রতারণা ও ঠকবাজির আশ্রয় নেয়া জুলুম। ব্যবসায় ন্যূনতম প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হলে ব্যবসার সমুদয় আয় হারাম উপার্জনের শামিল। মধ্যপ্রাচ্যসহ সব মুসলিমপ্রধান দেশে রোজার মাস এলে জিনিসপত্রের দাম আশাতীতভাবে কমে গেলেও আমাদের দেশে তার বিপরীত দৃশ্যই লক্ষণীয়। এখানে দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হচ্ছে, রোজার মাস মানেই চুটিয়ে ব্যবসার মাধ্যমে ভোক্তাদের পকেট খোয়ানোর প্রতিযোগিতায় ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাঁপ। রোজা রেখে, নামাজ পড়ে, ধর্মে-কর্মে বেশ অগ্রসর হয়েও যারা ব্যবসার আড়ালে আমজনতাকে দুঃসহ দুর্ভোগে নিক্ষেপ করে তা কোনভাবেই ব্যবসার স্বাভাবিক রীতিনীতি হতে পারে না। তা লুণ্ঠনবৃত্তিরই দৃশ্যমান বাস্তবতা। কিন্তু ইসলামে ব্যবসাকে সবচেয়ে সম্মানজনক উপার্জনের পন্থা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ব্যবসার নামে দস্যুবৃত্তি ও নিষ্ঠুরতম ফায়দাচারের বিরুদ্ধে ইসলামের নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোর। এ সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হযরত রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, ‘খাদ্যশস্য দুর্মূল্য হলে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন তা আটকিয়ে রাখে, সে সেই সব খাদ্যশস্য গরিব দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করে দিলেও এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে না। একবার এক মজুদদার সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হলে নবীজি (সা.) ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘এতে আগুন লাগিয়ে দাও। তা ছাড়া ওজনে কম দেয়া, প্রতারণা করা, ভালো মাল দেখিয়ে খারাপ মাল বিক্রি করা ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম।মাহে রমজান আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ সব জিনিসেরই দাম বেড়ে যায়। অসাধু ব্যবসায়ীরা মাহে রমজানকে ‘দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতার মাস’বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা লাভের মাস হিসেবে ফায়দা লুটছে যুগ-যুগ ধরে। তাই রজমানের মহিমাকে অটুট রেখে জনজীবনে স্বস্তি বজায় রাখতে এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।
আসন্ন রোজার মাসে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না। রমজানে নিত্যপণ্যের যে চাহিদা দেশে আছে, তার চেয়ে বেশি আমদানি করা হয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় এবার কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে না।সূত্রগুলো বলছে, সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ে কোনরকম বিতর্কে জড়াতে চায় না। ফলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরগুলোকে নিন্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতদসত্তে¦ও যদি কেউ বা কোনো ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান পণ্য সিন্ডিকেট তৈরি করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় তৎপরতা চালায় তবে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া মাত্রই দায়ী প্রতিষ্ঠানের পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও সাবধান করা হয়েছে।তবে ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রোজার মাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভোক্তা সাধারণ বা রোজাদারদেরও সংযমের পরিচয় দিতে হবে। আমাদের প্রিয় নবী (সা) ও তাঁর ন্যায়নিষ্ঠ সাহাবারা রোজায় ইফতার করতেন সামান্য খেজুর ও বিশুদ্ধ পানীয় দিয়ে। মূলত, সংযমবৃত্তি দেখা যায় এখানেই। ইফতার-সেহরির নামে ভোজন উৎসবে মেতে থাকা রোজাদারের লক্ষ্য হতে পারে না। ব্যবসায়ী ও রোজাদার উভয়ই সংযমী হলে দুর্ভোগ-দুর্দশার পথ রুদ্ধ হবেই। ফিরে আসবে শান্তি-স্বস্তি।