চরবাগডাঙ্গার ভাঙন রোধ করা না হলে হুমকির মুখে পড়বে পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প

12

এবার শুষ্ক মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে হুমকির মুখে পড়তে পারে পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প। ভেস্তে যেতে পারে তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
গত ২ বছরের বন্যায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা ইউনিয়ন চরবাগডাঙ্গার রোডপাড়া গ্রামটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, জমিজায়গাসহ সর্বস্ব হারিয়ে ওই গ্রামের ৯০টি পরিবার যেখানে সেখানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বিঘা আম বাগান ও ফসলি জমি। চরম হুমকির মুখে রয়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কাইড়াপা, মালবাগডাঙ্গাসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রাম।  চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের সোহেল রানা মুকুল জানান, তাদের প্রায় ১০ বিঘার পারিবারিক আম বাগান গত বছরের ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়িও ছুঁইছুঁই করছে। শুষ্ক মৌসুমেও একটুএকটু করে ভাঙছে নদীর পাড়।  চরবাগডাঙ্গা ইউপির ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, ১৯৯৬ সালে পদ্মা নদীর ভাঙনে শিকার হয়ে বাখের আলী এলাকা থেকে রোডপাড়ায় বসতি গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু গত দুইবছরের তীব্র ভাঙনে আবারও রোডপাড়া গ্রামটি নদীতে বিলীন যাওয়ায় বর্তমানে বারঘরিয়া ইউনিয়নের সøুইস গেট এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে কোনো রকমে মাথা লুকিয়েছেন। এমন অবস্থা ভাঙনকবলিত অন্যান্য পরিবার-গুলোরও।  এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শাহিদুল আলম জানান, ২০১৩-২০১৪ সালে বাস্তবায়িত সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলা রক্ষা প্রকল্পের শেষ সীমানা বাখর আলী হতে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পর্যান্ত গত দুইবছরে পদ্মানদীর তীব্র ভাঙনে ২০০মিটার জুড়ে প্রায় শ‘খানেক ঘরবাড়ি, প্রচুর আম বাগানসহ অন্যান্য গাছপালা,কৃষি জমি বিলীন হয়েছে পদ্মায়। প্রায় ১ কিলো মিটার জুড়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছে নদী। মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য স্থাপনা ও কয়েকটি গ্রাম। এবস্থায় সীমান্তবর্তী ভূখ- রক্ষার্থে কারিগরি কমিটির রির্পোট পাওয়ার পর পদ্মার বামতীরে গোয়ালাডুবি থেকে ২ কিলোমিটার এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়নের লক্ষে ১৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে গত ১২ মার্চ প্রেরণ করা হয়েছে এবং রাজশাহী থেকে গত ১৫ মার্চ ঢাকায় পাঠানো হয়। তিনি জানান, লাভ হবে না মর্মে কারিগরি কমিটির সুপাশের ভিত্তিতে পদ্মা নদী খনন ছাড়াই প্রকল্পটি দাখিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ফারাক্কা ব্যারেজের বিরূপ প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর বামতীরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। তখন বিএনপি সরকারের আমলে শুরু হওয়া ভাঙনে পাঁকা-নারায়নপুর এলাকায় সিসি ব্লক ফেলা হলেও তা কোনো কাজে লাগেনি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদের একেবারে শেষ দিকে পদ্মা প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি স্পার, প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ, পাগলা নদী সংযোগ খাল ও ক্রসড্যাম নির্মাণে গ্রহণ করা হয় পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প। কিন্তু কাজ শুরু হতে না হতেই বন্যা শুরু হলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ওই বছরেই ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, আবারও ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এলাকাবীস আন্দোলনের মুখে কাজ চলমান রাখা হয়। তবে ভুল নকশার কারণে স্পার গুলো কাজে লাগেনি। ফলে পরবর্তীতের নকশা পরিবর্তন করে নদর তীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে রক্ষা পায় হাজার হাজার স্থাপনা, ঘরবাড়ি, জমিজায়গা। পরবর্তীতে প্রকল্পটি সম্প্রসারণ করা হয়। শিবগঞ্জের মনোহরপুর এলাকা হতে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি পর্য়ন্ত ২ প্রকল্পে তিন শ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। বর্তমানে গোয়ালডুবি হতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পর্যন্ত নদী তীর সংরক্ষণ করা না হলে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সসহ বহুস্থাপনা, ঘারবাড়ি, জায়গা জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে এবং বাস্তবায়িত প্রকল্প দুটি ভেস্তে যাবে-এমনটাই আশঙ্কা এলাকাবাসী।