চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে অপরাধ দমনে মাঠে নামছে পুলিশ

6

চাঁপাইনবাবঞ্জের মানুষ যেমন দিন দিন আধুনিক হচ্ছে তেমনি প্রযুক্তি ব্যবহারেও আগ্রহ বাড়ছে সবার। হাতের মুঠোয় গোটা বিশ্ব এখন। চায়লেই খুব সহজে পৃথিবির যাবতীয় ভালো মন্দ বিষয় জানা যাচ্ছে। একের পরে যেমন দুই হয় ঠিক তেমনি ভালোর পরে হয় মন্দ। আর তাই ভালোর পাশাপাশি ঘটছে মন্দ ঘটনাও।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হচ্ছে আমের রাজধানী। আর তাই জেলা শহরের মধ্যেও রয়েছে আম বাগান। সেসব বাগানের ভেতরে এখন ঘর বাড়ি, রাস্তাও তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে। এ সব বাগান কিংবা রাস্তায় তুলনামূলক নির্জনতার কারণে বখাটে ও মাদকসেবীরা নারীদের উত্ত্যক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে। সে সাথে চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে এলাকাবাসী বলছেন।  চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার রেহাইচর, ফুলকুঁড়ি এলাকার বাগানসহ অন্যান্য বাগানে এমন ঘটনার অভিযোগ থানাতেও আসছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়। এমন অবস্থায় বখাটে, চোর, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা সেবনকারীসহ সকল প্রকার অপরাধিদের দমনে শহরতলিতেও মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, অভিযানে নামবে পুলিশ। অপরাধী যেই হোক না কেনো তাদেরকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জানা যায়, কিছু দিন আগে ভুক্তভোগী এক কিশোরী জানান, একদিন বেলা ১১ টার দিকে টোল ঘর হতে পায়ে হেঁটে নিজ বাড়ি ফুলকুঁড়ি যাচ্ছিলেন, রেহাই চর গোরস্থানের কাছে পৌঁছামাত্র কয়েকজন যুবক তাকে ধাওয়া করেন। প্রাণ ভয়ে কিশোরী একটি বাড়িতে ঢুকে আশ্রয় নেন। পরে আশ্রয়দেয়া বাড়ির লোকজন তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। রবিবার সকালে মহানন্দা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ হয়ে এক নারী ফুলকুঁড়ি স্কুলের দিকে যাওয়ার পথে একই ধরনের ঘটনা ঘটে। একইভাবে পাশের একটি বাড়িতে দৌঁড়ে আশ্রয় নেন ওই নারী। বখাটেরা ওই কিশোরীর শ্লীলতা হানিরও চেষ্টা করে।
রেহাই চরের বাসিন্দা আবদুল আওয়াল জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি সংঘবদ্ধ চোরের দল রাতের বেলা বাড়িতে ঢুকে সোনা ও টাকা পয়সা চুরি করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ভয়ে তিনি থানায় অভিযোগ পর্যন্ত করতে পারেন নি। এ ছাড়াও শনিবার রাতে একই এলাকার খালেক নামে এক ব্যক্তির বাড়ি হতে সোনা ও টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। দিন দিন বেড়েই চলেছে এ ধরণের অপরাধ।  এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম-বিপিএম বলেন, রেহাইচর ও ফুলকুঁড়ি এলাকাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যেকটা পাড়া মহল্লায় যে কোনো অপরাধীকে ধরতে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। অপরাধী যেই হোকনা কেনো তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, এ সব এলাকার যারা অপরাধী তাদের ধরতে এবং আইনের আওতায় আনতে এলাকাবাসীরও সহায়তা প্রয়োজন। অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্যও আহবান জানান পুলিশ সুপার মোজাহিদুল ইসলাম।