বাড়ছে বিজি প্রেসের নিরাপত্তা : প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সময়োপযোগী উদ্যোগ

11

গত বছরের ৯ জুলাই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ওই ঘটনায় বিজি প্রেসের একটি চক্রের জড়িত থাকার প্রমাণ পায় বিভিন্ন তদন্ত কমিটি। জানা যায়, বিজি প্রেসের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে চক্রটি। এর আগে বিসিএস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রশ্নপত্র ফাঁসের অন্যতম কারণও ছিল এই নিরাপত্তা। এই সূত্রে একটি গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপত্তা ইউনিট গঠনসহ ১৩ সুপারিশ করেছে। বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষ তাতে আরো কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে একটি প্রস্তাব সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।  তাছাড়া এ বিষয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়েও একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্বান্ত হয়। সর্বশেষ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর জানাজানি হওয়ার পর দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিজি প্রেস, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পৃথকভাবে ঘটনার তদন্ত করে। সূত্রটি জানায়, ঘটনার ধারাবাহিকতায় একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে নিরাপত্তার অভাব এবং তা দূর করতে করণীয় ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধান করে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পৃথক নিরাপত্তা ইউনিট গঠনসহ ১৩ দফা সুপারিশ করে। বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষ তাতে আরো কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। প্রস্তাবটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পৃথক নিরাপত্তা ইউনিট গঠন। বর্তমানে একজন পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩৬ জন পুলিশ সদস্য আছেন। এর পরিবর্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৬০ জন সদস্য নিয়ে একটি নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথা বলা হয়। প্রয়োজনে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মতো পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (বিজি প্রেস) পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়। নিরাপত্তা ইউনিট সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেখভাল করবে। তবে ইউনিটের সদস্যরা যাতে দীর্ঘ মেয়াদে সেখানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ না পায়, তাও মাথায় রাখতে বলা হয়। ইউনিট-প্রধান ওই পুলিশ কর্মকর্তা মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তার বিষয়টি অবহিত করবেন। সুপারিশের মধ্যে আরো আছে, প্রেসের পুরো এলাকাকে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার আওতায় এনে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকি করা, প্রতিদিন অফিস শেষে প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদার বিজি প্রেসের কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ সিলগালা করা বা খোলা, গোপনীয় শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ নামের তালিকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অফিসে সংরক্ষণ, তাঁদের ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে গোপনীয় শাখার কাজের অনুমতি দেওয়া এবং মুদ্রণ-সংক্রান্ত কাজ চলাকালে শাখার সব গেট বন্ধ রেখে গেট বা পোস্টে রেজিস্টার সংরক্ষণ করে সেখানে সশস্ত্র পাহারা বসানো। সুপারিশে আরো বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকি করবে। বিজি প্রেসে কর্মরত আছেন এক হাজার ২০১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। নিরাপত্তা বিধানে দুটি ব্যারাকে পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) ও স্পেশাল আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ) শাখার ৩৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা পালা করে ৯টি স্থানে পাহারার কাজ করেন। অফিস কক্ষের একপাশে দ্বিতীয় তলায় এসএএফের ২০ সদস্য এবং ক্যান্টিন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ১৬ সদস্য থাকেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যারাক দুটি পরিদর্শনের নজির কম বলে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা বিজি প্রেসে প্রবেশ ও বহির্গমনের কোনো ধরনের নথি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো তথ্য সংরক্ষণ করেন না। এমনকি বিজি প্রেস থেকে ট্রাকে মালামাল গ্রহণের হিসাব করেন মাত্র একজন কনস্টেবল। তাই, সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জনবল ও তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর। সরকার শিক্ষাখাতের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। তবে এর জন্য দরকার সবার ঐকান্তিক চেষ্টা আর সহযোগিতা। আমাদের সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষাক্ষেত্র তৈরী করতে।