প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ ॥ “স্বপ্ন কিশোরী” প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বুধবার উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে প্রকাশিত প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।  এ উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১ টায় জেলা শহরের বেলেপুকুরে সংস্থার নকীব হোসেন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ড. এ কে এম নূরুজ্জামান, টিম লিডার, ইউপিপি উজ্জীবিত প্রকল্প ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (কার্যক্রম), পিকেএসএফ, ইউপিপি উজ্জীবিত প্রকল্পের উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহমুদুর রহমান, সাংবদিক জোনাব আলী, ঘুঘুডিমা কিশোরী ক্লাবের সদস্য তুরজাউন খাতুন ও প্রতিবন্ধী নারী নূরানী খাতুন।
পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউ-েশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় ইউপিপি উজ্জীবিত প্রকল্পের আওতায় কিশোরীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে প্রকাশিত “স্বপ্ন কিশোরী” প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং সব শেষে জেলার ৪৫ জন প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষের মাঝে একটি করে ছাগল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন জানানা, ২০১৩ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউ-েশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় ইউপিপি উজ্জীবিত প্রকল্পের আওতায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্য, যৌতুক প্রথা বন্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়ের হার বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি, জেলাগুলোর মধ্যে এবং এটি আমরা সামাজিকভাবে দেখে থাকি। এখানে আপনারা যারা আছেন অধীবাসী তাদের আমার এই কথাটি হয়তো ভালো নাও লাগতে পারে। তবুও আমার পর্যবেক্ষণটা আমি বলি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সমাজ ব্যবস্থার কারণে বাল্যবিয়ে বেশি। সমাজ ব্যবস্থা বাল্যবিয়ের বিপক্ষে না হওয়ায় বাল্যবিয়ে বন্ধ হচ্ছে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্যান্য জেলার মতো মূলত পারিবারিক দারিদ্র্য বা অন্যান্য নিরাপত্তার অভাব এ কারণে বাল্যবিয়ে হচ্ছে এটি এখানকার জন্য পুরোপুরি প্রযোজ্য না। এখানকার মানুষের মানসিক গঠন বা বিভিন্ন চর্চা অথবা তাদের যে পারিবারীক সম্প্রীতি অথবা তাদের কালচার এগুলো থেকে বাল্যবিয়ের প্রকোপটা বেশি এবং এগুলোই বাল্যবিয়ে বন্ধ না হওয়ার কারণ বলে আমি মনে হয়। কারণ, আমি এক বছরের বেশি সময় যাবৎ এজেলায় বাল্যবিয়ে বন্ধে কাজ করছি এবং আমি আমার মতো করে দেখার চেষ্টা করছি। আমরা যা করছি সেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ঘোষণা রয়েছে বাল্যবিয়ে বন্ধের ব্যপারে, যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আমাদের জেলায় বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহযোগিতায় আমরা একটা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি, সেই মোতাবেক আমরা কাজ করছি। আমরা ২০১৭ সালের মে মাস পর্যন্ত বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারতাম। সে সময় পর্যন্ত চার পাঁচ মাসে আমরা প্রায় ৫০ টি মতো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু এগুলো খুব ফলদায়ক হয়নি। আমরা বিভিন্ন সময় এটা লক্ষ্য করেছি যে, যখন মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে একটা বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছি তার দুই থেকে চার দিন পওে আরেক জায়গায় বিয়েটি হয়ে যায়। এবং আমরা দেখেছি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বন্ধ হওয়া বাল্যবিয়েগুলো আরেক জায়গায় হচ্ছে এবং সেগুলো প্রতিষ্ঠিত মধ্যস্থ্যতাকারী ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমেই হচ্ছে। তারা হয়ত কেউ কেউ এই দায়ভার নিচ্ছেনা। বাল্যবিয়ের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় পাঁচশ জেএসসি ছাত্রী পরীক্ষা দেয় নি। তিনি বলেন ইউনিসেফের সাথে যুক্ত হয়ে আমরা ২৯ টি কিশোর কিশোরী ক্লাব গঠন করেছি।
ড. একেএম নুরুজ্জামান বলেন- উজ্জীবিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের সব চেয়ে সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী তাদেরকে সহায়তা প্রদান করা। সে সহয়তা দিতে চাচ্ছি অনেক টাকা না দিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যের যে পরিণতি সেটি পরিবর্তন করতে। আমরা এই প্রকল্পটি ১৭২৪ ইউনিয়নে বাংলাদেশের চারটি বিভাগে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চটগ্রামকাজটি করছি। এই ১৭২৪ টি ইউনিয়নে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী ১ লক্ষ সদস্যকে আমরা প্রশিক্ষন দিচ্ছি। আমরা ১৫ হাজার সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সল্পকালীন প্রশিক্ষন দিয়েছি। আমরা ১ হাজার কিশোর-কিশোরীকে ভকেশনাল টেনিং দিয়েছি এখনো দুইটি ব্যাচ রাজশাহীতে চলোমান রয়েছে। সেখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, নদী ভাঙ্গোন জনগোষ্ঠী এবং সব এলাকার জনগণ ওখানে রয়েছে। আমাদের আরো একটি বিশেষ কাজ আপনারা হয়তো জানেন বাংলাদেশে সেটা হচ্ছে এই মুহুতে কোননা কোনো প্রতিবন্ধীতে আকান্ত জনসংখ্যা ১ কোটি ১০ লক্ষ এইটা সরকারের এই সম্প্রতিক পরিসংখানে বের হয়েছে বাংলাদেশের প্রায় সাত ভাগ লোক কোনো না কোনো ভাবে প্রতিবন্ধীতার শিকার এবং এই প্রতিবন্ধীতার সংখ্যা কোনো এত বেড়ে যাচ্ছে তার একটি অন্যতম কারন হচ্ছে এই গর্ভকালীন অবস্থায় তাদের সেবাযতেœর অবহেলা এবং তাদের সামান্য তম কিছু না জানার কারনে এই প্রতিবন্ধীতা হাড়টা বেরে যাচ্ছে। সেই কারনে আপনারা জেনে খুশি হবেন যে আমরা একটি কার্যক্রম চালাই সেটাকে বলি ১হাজার দিনের কার্যক্রম। যেদিন মায়ের পেটে বাচ্চটা আসে সেইদিন থেকে শুরু করে ওই বাচ্চার দুই বছর পূতি পযর্ন্ত আমরা একটি কার্ড দিই। সেই কাডে ১৪ টাকা খরচ হয়, কার্ডটা ছাপানোর জন্য এবং সেটি সংরক্ষণের জন্য।আপনারা জানেন যে বাংলাদেশ সরকার এই মূহতে বাংলাদেশে প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরী করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অনেক গুলো ক্লিনিকের সেবা চালু রয়েছে। জেলা হাসপাতাল রয়েছে।

SHARE