শৌচাগারে জীবাণু বিস্তার রোধে করণীয়

ত্যাগের পর কমোডের ঢাকনা ফেলে ফ্লাশ করলে জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে। ঘরের শৌচাগার যতই চকচকে করে রাখুন না কোনো জীবাণু সেখানেও মারাত্বক মাত্রায় বিদ্যমান। আরও মারাত্বক ব্যাপার হল এই জীবাণু পুরো শৌচাগার জুড়েই ছড়িয়ে আছে। কয়েকটি গবেষণার বরাত দিয়ে স্বাস্থবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই শৌচাগার থেকে জীবাণু ছড়ানোর মাত্রা কমানো উপায় হচ্ছে কমোডের ঢাকনা ফেলে ফ্লাশ করা। ১৯৭৫ সালে ‘অ্যাপ্লাইড মাইক্রোবায়োলজি’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, শৌচাগারের কাজ শেষে পানি ঢেলে কিংবা ফ্লাশ করার কয়েক ঘণ্টা পরেও সেখানে জীবাণু থেকেই যায়। তবে, বড় সমস্যাটা হল ওই ফ্লাশ করার কারণে জীবাণুগুলো আরও বড় জায়গা জুড়ে ছড়ায়। ফলে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে নিজের অজান্তেই আরও জীবাণু ছড়াচ্ছেন আপনি নিজেই, আবার ফ্লাশ না করা কিংবা পানি না ঢালাও সম্ভব নয়।
মলমূত্রের এই জীবাণু বাতাসে ঘুরে ঘুরে শৌচাগারের সবকিছুর উপর ছড়িয়ে পড়ে। আশার কথা হল, পুরানো দিনের প্যানগুলোতে তীব্র বেগে ফ্লাশ হওয়ায় জীবাণু ছড়ানোর মাত্রা ছিল বেশি, বর্তমান যুগের আধুনিক নির্মাণশৈলী তা অনেকটা কমিয়ে এনেছে। তবে একেবারে নির্মূল হয়নি।
যুক্তরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অফ লিডস’য়ের করা এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিবার ফ্লাশ করার সময় ‘সি. ডিফিসিল’ নামক ব্যাকটেরিয়া প্যানের ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত উপরে ভেসে ওঠে। এই ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের প্রদাহ, ডায়রিয়া, মারাত্বক বমি এবং বিভিন্ন পেটের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এই বায়ুবাহী ব্যাকটেরিয়াগুলো ফ্লাশ করার পর প্রায় ৯০ মিনিট পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
সমাধান: সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে কমোডের ঢাকনা নামিয়ে তারপর ফ্লাশ করা। এতে জীবাণু ছড়ানোর মাত্রা কমবে প্রায় ১০ গুন পর্যন্ত। বাসায় কারও সর্দি-কাশি হয়ে থাকলে শৌচাগার নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। এছাড়াও শৌচাগারে টুথব্রাশ, তোয়ালে, গামছা, মাউথওয়াশ ইত্যাদি নিত্যব্যবহার্য জিনিষপত্র না রাখাই শ্রেয়।
গণ শৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে যতটা কম সময় সেখানে কাটানো যায় ততই মঙ্গল, পারলে নিশ্বাস বন্ধ করে রাখতে পারেন। শৌচকাজ শেষে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে। ফ্লাশ করতে হবে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে। আর ঢাকনা ফেলতে ভুলে গেলে চলবে না।