বরিনের কান্না

মো.আজিমুল ইসলাম চয়ন : ছোট্ট শিশু রবিন। সবে মাত্র প্রথম শ্রেণির ছাত্র। ভর্তি রোল দশ। আর দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত রোল হয় এক এবং বৃত্তিতেও নাম্বার ওয়ান। তারপর,ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র জীবনের সূচনা হয়। বেশ ভালোই চলছিল ছাত্র জীবন।
কিন্তু, এ কি হল, হটাৎ অসুস্থ হয়ে বাবাটি পরিবারের সকল মায়া ছিন্ন করে, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল।
তারপর, পরিবারটি দুঃখের সাগরে ভেসে যায়। কে দেবে রবিনের পড়ার খরচ,পরিবারের খরচ।এর কোনো পথ নেই, দারিদ্র্যতাই একমাত্র সম্বল। এ থেকে বাঁচতে গিয়ে, ছাত্র জীবন চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় রবিনের।
কাজের জন্য বের হলে কে দেবে কাজ এ অবুঝ শিশুকে। কিন্তু ক্ষুধার জ্বালা কাউকে বসিয়ে রাখতে পারে না। অবশেষে, চায়ের স্টলে গিয়ে, কাপ-পিরিচ,পরিষ্কার করার কাজ নিল এ শিশু। দিনে তিন বেলা খাওয়া আর দৈনিকভাতা ত্রিশ টাকা। আর সে টাকা নিয়ে গিয়ে মায়ের হাতে দেয়। এভাবে হাজরো দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন চলে যায়।
কিছু দিন পর,
আর কোনো মতেই চলতে পারচ্ছে না রবিন। প্রচ- জ্বর শরীরে, তারপরও সে দোকান গেল। কাউকে বলে না সে, কিন্তু দুচোখের জল আর থমল না, অঝরে বেরিয়ে পড়লো নয়ন থেকে। দুর্বল শরীর, বেহুঁস হয়ে পড়ে যায় মেঝেতে। লোকজনে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যায় রবিনকে।
কিছুক্ষণ পর, জ্ঞান ফিরল হাপাতালে। কিন্তু দীর্ঘশ্বাস নিচ্ছে আর দুচোখ দিয়ে স্রোতের মতো অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। কিছুক্ষণ পর একটু চোখের পাতাটা খুলে, মা মা বলে দুবার ডাক দিয়ে চিরদিনের মতো চোখ দুটি বন্ধ করে নিল রবিন।