আন্তর্জাতিক নারী দিবস : প্রতিবন্ধী নারী নূরানীর পথ চলা

54

ডি এম কপোত নবী : আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। লেখার শুরুতেই পৃথিবীর সকল নারীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু করছি। আজ দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশগ্রহণ করছে বিভিন্ন কর্মকান্ডে। যে কোন কর্মস্থলেই এখন নারীর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। দেশের উন্নতির পেছনে নারীর অবদান ঈর্ষণীয়। কিন্তু নারীরাই হচ্ছে সুবিধা বঞ্চিত। তাই জীবন চলার পথে হঠাৎ থেমে যেতে হয় তাদের। কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ কর্মস্থলে নেই কোন ডে-কেয়ার সেন্টার, নেই কোন পরিবহনের ব্যবস্থা। যা আছে সেটা অপ্রতুল। সাধারণ মানুষের জন্যই বাসে উঠে যাতায়াত করা খুব কষ্টকর। আর নারী হলে তো বাসে ওঠা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছা পর্যন্ত সবটাই যন্ত্রণাদায়ক। সব ক্ষেত্রে আজ নারীকে যুদ্ধ করে এগুতে হচ্ছে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের নারীরাও আজ ঘর ছেড়ে বাইরে অর্থাৎ কর্মস্থলে যাচ্ছে। স্বাভাবিক নারীদের পাশাপাশি বহু প্রতিষ্ঠানেই প্রতিবন্ধী নারীরাও কাজ করছে। আজ বলব চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বালুবাগান গ্রামের মোসা. নূরানী খাতুনের কথা।
নূরানী জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধীর কারণে সে স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারেনি। লম্বাতে নূরানী তিন ফুট মত। হাত আছে কিন্তু আঙগুল নেই। পা নেই। কোমরের ভরেই হাঁটতে হয় তাঁকে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে নূরানী। বাবা রাজ মিস্ত্রীর কাজ করেন। নূরানীর পরিবারে চার ভাই বোন আর মা-বাবা মিলে মোট ১০ জন। তাঁর বাবার একার পক্ষে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তবুও অদম্য ইচ্ছা আর শক্তির কারণে ছোটবেলা থেকেই নূরানী পড়ালেখা করছে। কারবালা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এর ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী নূরানী। ছোটতে সে তাঁর মায়ের কোলে চড়ে স্কুলে যেত আবার ছুটি হলে মা কোলে কোরে বাড়ি নিয়ে ফিরত। ৫ম শেণি পাশ করার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ নূরানীকে হুইল চেয়ার কিনে দেন। সাফল্যের সাথে সে এসএসসি পাশ করার পর সেখানেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। একাদশ শ্রেণির গন্ডি পেরিয়ে সে এখন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। নূরানীর সাথে কথা বললে সে জানাই, ছোট বেলা থেকে আমার পড়ালেখা করতে খুব ভাল লাগে। আমি কারো বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। পড়ালেখা করে আমি মানুষের মত মানুস হতে চাই। আমার মত হাজারো প্রতিবন্ধীকে সাহায্য করতে চাই। আমার ইচ্ছে একজন শিক্ষক হওয়া, বাকীটা আল্লাহর ইচ্ছা। তিনি আরো বলেন স্কুলের সকলে আমাকে খুব সাপোর্ট দেয়, সহযোগিতা করে। অনেক সময় বেতনের অর্ধেক টাকাও নিয়ে থাকে। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে বই, খাতা বিনামূল্যে পাচ্ছি। সবাই আমাকে ভালবাসে, হয়ত আমি আর পাঁচটা মানুষের মত না এ জন্য আমাকে অন্য চোখে দেখে। হাতের সমস্যার কারণে নূরানী কলম দিয়ে লিখতে পারে না। কলমের পরিবর্তে কলমের পাতলা শিষ দিয়ে লিখতে হয়। লেখার অসুবিধা হলেও এভাবে লিখতে লিখতে অভ্যাস হয়ে গেছে। নূরানী আরো বলেন কতদূর পড়ালেখা করতে পারব জানি না। তবে সকলে যদি আমাকে সহযোগিতা করেন তাহলে আমি লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে চাই।
অত্যান্ত দৃঢ় মনোবলের কারণেই আজ নূরানী প্রতিবন্ধী হয়েও কষ্ট করে শিক্ষিত হয়েছে। সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য নানারকম সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। সে সুবিধা কাজে লাগিয়ে নূরানী এগিয়ে চলেছে সফল এক গন্তব্যর পথে।