চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা > মৌখিক পরিক্ষায় ধরা পড়ল ওদের লিখিত পরীক্ষা অন্য দুজন দিয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ লাইন্সয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৩য় স্থান শ্রী ফুলচাঁন সিংহ ও ৭ম স্থান অধিকার করা আমীন আলী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বিষয়টি ধরা পড়েছে গত ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত মৌখিত পরীক্ষায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যলয়ে এক প্রেস বিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ৬জন আটক হওয়ার পর আমরা আবারো মৌখিত পরীক্ষায় সবাইকে ভালোভাবে যাচাই বাছাই করি, সেসাথে মেধা তালিকায় উপরের দিকে থাকা দুজনকে সন্দেহ হয়, পরীক্ষার খাতায় তাদের লেখার সাথে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে লেখা মিলেনি, সেসাথে তারা কোন কোন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে সেটিও বলতে পারে নি। পরে তারা বিষয়টি স্বীকার করে এবং পরীক্ষায় না বসে চাকরি পাওয়ার আশায় তারা আর্থিক লেনদেন করেছে। পরে পুলিশ তাদের স্বীকারোক্তী অনুয়ারী রবিবার বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে এ কাজে তাদের সহযোগিতা করা ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। সেসাথে তাদের হয়ে পরীক্ষা দেয়া দুজনকে আটকের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
আটককৃতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা গ্রামের মৃত আবু বক্কার সিদ্দিকির দু ছেলে মনিরুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মসজিদ পাড়ার মোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী তাজেরুল বেগম (এ সময় তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়), শিবগঞ্জ উপজেলার মৃত তছির উদ্দীনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (এসময় তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়)।
পুলিশ সুপার আরো জানান, আনোয়ার হোসেনর স্বীকারোক্তী অনুয়ারী এ চক্রের মূল হোতা রংপুরের পিরগঞ্জ থানার সালাম মন্ডলের ছেলে সেতু মন্ডল ও তার সহযোগী শেরপুর জেলার নকলা থানার পাঠাকাটা গ্রামের আবু সফিয়ানের ছেলে মোকারম হোসেনকে বগুড়া জেলা পুলিশের সহায়তায় বগুড়া শহরের জয়পুরপাড়া মাটিডালি বাজার আসিফ ভিলা হতে আটক করা হয়।
এর আগে প্রক্সি দিতে এসে আটক ৬জনসহ সব মিলিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের ১৪জনকে আটক হয়েছে। এ চক্রের সাথে আরো কারা কারা আছে এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে জানান জেলা পুলিশের প্রধান পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম।