উত্তরের বাতায়ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ গ্রন্থে উঠে এসেছে জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য

36

-মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা-

লেখক ও কলামিস্ট জাহাঙ্গীর সেলিম এর লেখা “উত্তরের বাতায়ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ গ্রন্থে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য উঠে এসেছে বলে আলোকগণ উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার বিকেল ৪ টায় নবাবগঞ্জ কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী এবং আলোচক ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি মো. আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান ও দৈনিক গৌড় বাংলার সম্পাদক হাসিব হোসেন। অনুষ্ঠানের আলোচক ছিলেন কবি-গল্পকার-গবেষক ড. শহীদ সারওয়ার আলো। স্বাধীন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, অ্যাডভোকেট আবু হাসিব, সাইফুল বারী সুমন আর গ্রন্থটি সম্পর্কে নিজের অভিব্যাক্তি জানান-লেখক জাহাঙ্গীর সেলিম। স্বাধীন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনামূল হক তুফান স্বাগত বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথী ও আলোচক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভূগোল এক লক্ষ বছরের বেশি সময়ের ভূগোল। অথচ এ জেলার ভূগোল নিয়ে পরিপূর্ণ একটি ইতিহাস এখন পর্যন্ত কেউ লেখার চেষ্টা করেননি। কিন্তু জাহাঙ্গীর সেলিম একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করার চেষ্টা করেছেন। এতবড় কাজটি করতে গিয়ে কিছু ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, তবে তা ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে। তিনি বলেন-অর্থ কষ্টে থেকেও জাহাঙ্গীর সেলিম মহৎ কাজটি এককভাবে সম্পাদন করেছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন-বরিশাল-নওগাঁসহ অন্যান্য জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জেলার ইতিহাস রচনা করেছেন। কিন্তু আমাদের এ জেলায় সেটি হয়নি, তবে আমি আশা করব চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস রচনায় জেলা প্রশাসন কাজ করবে। আমরা চলতে শিখেছি, এখন কেউ যদি আমাদের পিছন থেকে টেনেও ধরেন, তাও আমরা থামব না। সেটি এই বই প্রকাকাশনার মাধ্যমে নতুনভাবে জাহাঙ্গীর সেলিমের কাছে আমরা আবারও শিক্ষলাম।
বিশেষ অতিথির আলোচনায় জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন-“উত্তরের বাতায়ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ” গ্রন্থে প্রচুর তথ্য রয়েছে, যা ভবিষ্যতে গবেষণার কাজে লাগবে। গ্রন্থটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং পাঠাগারে পড়ার ব্যবস্থা করবেন বলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করে তিনি বলেন-পরবর্তী সংস্করণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রেফারেন্স যদি উল্লেখ করা হয় -তাহলে গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে এই বইটি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসিব হোসেন বলেন- কোনো একটি সৃষ্টির উপর প্রচুর সমালোচনা করা যায়। আমি মনে করি বিশাল এ গ্রন্থে লেখক যেসব তথ্য সন্নিবেশিত করেছেন তারও সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু তা অবশ্যই ইতিবাচক হিসেবে আমি দেখতে চাই। তিনি বলেন- আমরা ছোট বেলায় যেসব কথা বলেছি, শুনেছি, যেসব লোকজ বিষয় আমাদের ছিল যা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে জাহাঙ্গীর সেলিম তার সবই তুলে এনেছেন। আমি মনে করি চাঁপাইনবাবগঞ্জ কেন্দ্রিক তথ্যে তিনি সব চেয়ে বেশি শক্তিশালী করেছেন এ বইটিকে। আমাদের হারিয়ে যাওয়া সব কিছুই তিনি দীর্ঘ সময় ব্যয় করে তুলে এনেছেন। তিনি এ গ্রন্থে দেখিয়েছেন কীভাবে আম অর্থনীতি গড়ে উঠতে পারে এবং শুধুমাত্র জেলার ৪ বা ৫ বছরের আম থেকে পদ্ধা সেতু নির্মাণ করা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানের আলোচক ড. শহীদ সারওয়ার আলো বলেন-গ্রন্থটি গবেষকদের জন্য লেখা নয়, এটি সাধারণ মানুষের উপযোগী একটি গ্রন্থ। গ্রন্থটি গবেষকদের জন্যও ভূমিকা রাখবে।
জাহাঙ্গাগীর সেলিম বলেন-আমি চেয়েছিলাম, স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেন পড়েন। শিক্ষকরা যদি বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়েন তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। একাই এ কাজটি করতে গিয়ে কিছু তথ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে আগামীতে আমি তা সংশোধনের চেষ্টা করবো।