শীর্ষ ১০ অস্ত্র রফতানিকারকের তালিকায় যুক্ত হতে চায় অস্ট্রেলিয়া

এক দশকের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প খাতে শীর্ষ দশ রফতানিকারক দেশের তালিকায় নাম লেখাতে চায় অস্ট্রেলিয়া। এর জন্য এ খাতের উন্নয়নে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি প্রস্তুতকারকদের সরকারি ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল গতকাল সোমবার সাংবাদিকদেরকে এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তবে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া প্রতি বছর প্রায় ১৬০ কোটি ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি বিক্রি করে থাকে। বর্তমানে দেশটি বিশ্বের ২০-তম অস্ত্র রফতানিকারক দেশ। এখন অস্ট্রেলিয়া অস্ত্র রফতানির দিক দিয়ে সেরা দশের তালিকায় নাম লেখানোর পরিকল্পনা করছে। গতকাল সোমবার টার্নবুল বলেন, ‘এটি অস্ট্রেলীয়দের কর্মসংস্থানের বিষয়। আমাদের লক্ষ্য হলো সেরা দশে নাম লেখানো।’
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি বিক্রির জন্য অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোকে ৩৮০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি রফতানিতে উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করতে আলাদা সংস্থা গঠনের কথাও ভাবছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। টার্নবুল বলেন, ‘অবিরাম সতর্কতার বিনিময়ে স্বাধীনতা ধরে রাখতে হয়। সুতরাং আমরাসহ প্রত্যেক জাতি, প্রত্যেক দায়িত্ববান জাতিরই নিজেদের প্রতিরক্ষার সক্ষমতা থাকতে হবে।’
সমালোচকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি রফতানিতে অস্ট্রেলিয়ার আর বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত নয়। অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী মার্ক পুরসেল এবিসি নিউজকে বলেন, ‘যে অস্ত্র দিয়ে বিশ্বজুড়ে হত্যা, অঙ্গহানি করা হয়, যা দুঃখ ও ধ্বংসকে ডেকে আনে সেই অস্ত্র বাজারজাতকরণের খেলায় মেতে ওঠাটা আমাদের জন্য ঠিক হবে না।’
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র রফতানিকারক দেশ। বিশ্বের মোট বিক্রিকৃত অস্ত্রের এক তৃতীয়াংশই তারা রফতানি করে থাকে। এরপর পরই বড় অস্ত্র রফতানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে- রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।