নারীর ক্ষমতায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি

4

টেকসই উন্নয়ন অভিষ্টকে সামনে রেখে জেন্ডার সমতা অর্জন এবং নারীর ক্ষমতায়নে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ উদ্যোগের অন্যতম নারীর ক্ষমতায়ন।
দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এবং নারীর সার্বজনীন ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি, জাতীয় মহিলা সংস্থা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়া নারীদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদেরকে স্বাবলম্বী করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে সেলাই, নকশিকাঁথা, ব্লক-বাটিক, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আয়বর্ধক কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন শহর ও গ্রামের পিছিয়ে পড়া নারীরা। তারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়তি আয় করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছেন।
প্রযাস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি শুধুমাত্র ইউপিপি উজ্জীবিত প্রকল্পের আওতায় গত ২০১৪ সাল থেকে ১৭৫জন দরিদ্র নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিনামূল্যে সেলাইমেশিন প্রদান করা হয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় ১২৫জন, ব্লকবাটিকের উপর বাঁশ ও বেতের উপর ২৫জনসহ ১৫০জনকে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ফুড প্রসেসিং এন্ড প্রিজারভেশন ১৫জন নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। অপর দিকে বসতবাড়িতে সবজি চাষ বিষয়ে ১৭৫জনকে. কেঁচোসার উৎপাদন ও এর ব্যবহার বিষয়ক ২৫০জনকে,রেশমচাষ বিষয়ক ৫০জনকে, মাচা পদ্ধতিতে ছাগলপালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ৫২৫জনকে, গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়ক ৩০০জনকে, গাভী পালন বিষয়ক ২৫জনকে, সোনালি মুরগী পালন বিষয়ক ২৫জনকে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে সেলাই মেশিনে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ নারী স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও হাঁস, কবুতর, কৃষিসহ নানা বিষয়ে অতিদরিদ্র নারীদের প্রশক্ষিণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীরা তাদের দরিদ্র সংসারে অর্থযোগন দিয়ে সংসারে ফিরিয়ে আনছেন স্বচ্ছলতা। অপর দিকে জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থা থেকেও পিছিয়ে পড়া নারীসহ শিক্ষিত বেকার নারীরাও বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে আয়বর্ধক কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তাছাড়াও স্কুল কলেজগামী মেয়ে শিক্ষার্থীরা আয়বর্ধককাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি আয় করার সুযোগ তৈরি করে নিচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জাতীয় মহিলা সংস্থায় ৪ মাস মেয়াদি নকশী কাঁথা, কাটিং ও দর্জি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ৮০ জনকে এবং আইটিতে ৬ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ৫০ জনকে। সাধারণ নারীদের পাশাপাশি দলিত জনগোষ্ঠীর নারীরাও সংসারের উন্নতি এবং সমাজে নিজের একটা অবস্থান গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন জাতীয় মহিলা সংস্থায়। বারোঘরিয়া বাজারের সীমা পাল ও ভারতী পাল, তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জাতীয় মহিলা সংস্থায়। তারা জানান, সংসারের কাজ করার পর এখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। তাদের মূল পেশা, মাটির জিনিসপত্র তৈরী করা। মাটি দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার ভালোভাবে চলে না। তাই তারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের জন্য কিছু করতে চান। তারা জানান, এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন তারা বুটিকস এর দোকান দিয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করবেন বলে জানান।
লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজের অবস্থান গড়তে ছাত্রীরাও প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শুধু নকশী কাঁথা ও বুটিকস-ই নয়, কম্পিউটারেও প্রশিক্ষণ নিচ্ছে অনেক নারী ও নারী শিক্ষার্থী। জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়াসমিন সুলতানা রুমা বলেন, জাতীয় মহিলা সংস্থায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বেকার ও শিক্ষার্থী নারীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত নারীর ক্ষমতায়নে লক্ষ্য অর্জনের পথে আমরা এগিয়ে চলেছি। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সবাই ভালো কিছু করছে। প্রত্যেকে যাতে এখান থেকে বেরিয়ে কিছু না কিছু করতে পারে সেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তাদের। নারীরা আগের চেয়ে এগিয়েছে। নারী ক্ষমতায়নে নানান ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ এখন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ক্ষমতায়ন একজন মানুষের ভেতরে আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করে, যার দ্বারা সে সমস্যার সমাধান করতে শেখে, স্বনির্ভর হয়। এভাবে একজন নারী বা পুরুষ যখন জীবন জিজ্ঞাসার মতামত গ্রহণে ক্ষমতার অধিকারী হয় তখন মনে করা হয় তার ক্ষমতায়ন হয়েছে।

মরিয়ম নেসা

ফেলো, রেডিও মহানন্দা