সাকিবের তিনে ব্যাট করা অন্যান্যের সুযোগ

2

সাময়িকভাবে ব্যর্থ হলেও সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে জানেন সাকিব আল হাসান। মাশরাফি বিন মুর্তজার বিশ্বাস, সেই সামর্থ্যই তিন নম্বরে সাফল্য এনে দেবে সাকিবকে। অধিনায়কের মতে, সাকিবের তিন নম্বরে খেলা অন্যান্যের সামনে এনে দিয়েছে দারুণ সুযোগ।
ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বর জায়গা নিয়ে বাংলাদেশের ভোগান্তি বরাবরের। চন্দিকা হাথুরুসিংহে চেষ্টা করেছিলেন সাব্বির রহমানকে কাজে লাগাতে। কিন্তু সুযোগ নিতে পারেননি সাব্বির। হাথুরুসিংহে-উত্তর যুগে টিম ম্যানেজমেন্ট সেই দায়িত্ব দিয়েছে সাকিবকে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেই পরিকল্পনা খানিকটা সফলও হয়েছে। সাকিব আউট হয়েছেন ৩৭ রানে। তবে তামিম ইকবালের সঙ্গে তার জুটি দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছে জয়ের পথে।
তিনে নেমে অবশ্য এই রান যথেষ্ট নয়, বড় ইনিংস চাইবে দল নিয়মিত। তবে শুরুটা খারাপ হয়নি। মাশরাফির বিশ্বাস, তিনে সাকিবের সফল হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
“সাকিবকে তিনে ব্যাটিং করানোর পিছে আমার যুক্তি এটাই যে, গত তিন-চার বছরে অনেককেই চেষ্টা করা হয়েছে। সাকিব গত ১০-১২ বছর ধরে পারফরম্যান্স করেছেন। আমি নিশ্চিত যে ওর পারফরম্যান্স নিয়ে ওর নিজের চেয়ে বেশি ভাবনা আর কারও হবে না। ও যদি দুটি-তিনটি ম্যাচে ব্যর্থও হয়, আমি নিশ্চিত ওই একমাত্র ক্রিকেটার যে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কারণ ওর নিজস্ব একটা ভাবমূর্তি বিশ্ব ক্রিকেটে আছে। নিজেকে নিয়ে সংশয় জাগানোর চেয়ে পারফর্ম করা নিয়ে ভাবনা বেশি থাকবে ওর।”
তিনে সাকিব সফল হলে যে দলের জন্য দারুণ হয় এবং নিচের দিকে অন্যান্যের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়, সেই দিকও তুলে ধরলেন অধিনায়ক।
“প্রথম পাঁচে সাকিব, তামিম, মুশফিক, বিজয় ও রিয়াদ ব্যাটিং করছে। এই পাঁচ জনের দুই জন যদি ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারে, আমরা যে কোন উইকেটে জয়ের রানের কাছাকাছি পৌঁছে যাবো। পাশাপাশি রুম্মন (সাব্বির) আছে, ওর ভালো কিছু ইনিংস আছে। ওই সময় যে ধরনের ইনিংস দরকার হয়, সেই সামর্থ্য ওর আছে। সাত-আটে আমার কাছে যেটা মনে হয়, ওই জায়গাটা উন্মুক্ত আছে। যারা অলরাউন্ডার আছে, যারা দলে সুযোগ পেয়েছে, তাদের জন্য বড় সুযোগ। আমি সেটা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।”
সুযোগটা কেমন এবং সেটি লুফে নিতে কী করতে হবে, সেই ব্যাখ্যাও দিলেন মাশরাফি।
“সাতে নাসির খেলছে নিশ্চিত। শেষ ম্যাচেও খেলেছে। আমি বলেছি আটের জায়গাটা… নাসিরের জায়গাতেও অনেক হিসেব আছে। নাসিরকে বাদ দেওয়ার জন্য না, কিন্তু ওই সময়ে ওখানে গিয়ে ২০ বলে ৩৫ করতে পারার মতো ব্যাটসম্যান আমাদের নাই। টি-টোয়েন্টিতে এটা নিয়ে ভুগেছি। ওই জায়গাতে যদি ভালো কোনো খেলোয়াড় পাই। এখন যেমন আবুল হাসান আছে, সাইফ আছে, মিরাজও দলে এসেছে বেশি দিন হয়নি। এদের দায়িত্ব এখানে কীভাবে খাপ খাইয়ে নেবে, সেটা ঠিক করা।”
“এদের সবার বোলিং খুব ভালো, কিন্তু ব্যাটিং নিয়ে উন্নতি কীভাবে করছে সেটা ওদের ওপর নির্ভর করছে। সাকিব তিনে যাওয়ায় এদের জন্য কিন্তু বড় একটা সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশের হয়ে তাদের অবদান এত বেশি বাড়াতে পারে যে চাইলে যারা ম্যাচ উইনারও হতে পারে। এখন এটা কীভাবে নেবে সেটা ওদের ব্যাপার। শীর্ষ পাঁচ জানে ওদের কাজটা। এখন ছয়-সাত-আটকে ঠিক করতে হবে বাংলাদেশের পক্ষে তারা তাদের ক্যারিয়ার কীভাবে ঠিক করবে।”
তিনে ভালো করতে না পারা সাব্বিরকে নিয়ে ছয়-সাত নম্বরে অনেক আশা অধিনায়কের।
“সাব্বিরকে তিনের জন্য অনেক দিন চেষ্টা করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ওর জন্য এই জায়গাটা (ছয়-সাত) সবসময় ভালো। ও স্ট্রোক খেলতে পছন্দ করে, যদি ৮-১০-১২ ওভার পায়, তাহলে হিসেব করা সহজ। আমার মতে ও এখন সেরা বেস্ট পজিশনে আছে। সময়ের সাথে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে হয়ত আরও ওপরে উঠে আসবে।”