সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি : চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুবিধা ভোগ করছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী

সমাজকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা রকম উদ্যোগগ্রহণ করেছেন। দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সর্বস্তরের জনগণকে স¤পৃক্ত করতে একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, নারীর ক্ষমতায়ন কার্যক্রমসমূহ, সবার জন্য বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সমূহ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষাসহ দশটি বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে অনেকে পাচ্ছে নতুনভাবে জীবন গড়ার সুযোগ। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা ইত্যাদি প্রদান করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার সুবিধা ভোগ করছে সমাজের অবহেলিত দরিদ্র সাধারণ জনগণ।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তর কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বয়স্কভাতা পাচ্ছে ৪১ হাজার ৫৬৭ জন, বিধাবভাতা পাচ্ছে ১৫ হাজার ৫৫৭ জন এবং প্রতিবন্ধীভাতা পাচ্ছে ১১ হাজার ৪ শত ১১ জন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম জানান, হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ ভাতা রয়েছে ৬ জনের জন্য, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ভাতা পাচ্ছে ৭২ জন। এসব মিলিয়ে আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা দিয়ে আসছি ৬৮ হাজার ৬শ ১৩ জনকে। তিনি বলেন-একমাত্র সমাজসেবা অধিদপ্তর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩ শ টাকা প্রদান করে আসছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্যতম একটি কর্মসূচি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। ভাতাপ্রাপ্তদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪ নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের ঘোনটোলা এলাকার কশিমউদ্দীন। ৭ নম্বর সেক্টরের মোহদিপুরে যুদ্ধ করেছিলেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের নানা রকম সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছেন। তারমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা অন্যতম। ভাতার টাকা পেয়ে আমিসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে খুব সুখে আছি। পরিবারের অনেক উপকার হচ্ছে।
গ্রাম পর্যায়ে দারিদ্র্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এ-কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি হোক-এমনটাই ভুক্তভোগিরা মনে করেন।