স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সাথে সনাকের মতবিনিময় সভা

2

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে অদ্য ৯ জানুয়ারি ২০১৮ দুপুর ১২:৩০ টায় হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সনাক সহ-সভাপতি জনাব গৌরী চন্দ সিতু এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন জনাব ডাঃ এসএফএম খায়রুল আতাতুক হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সকল ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহবায়ক জনাব মোঃ রাইহানুল ইসলাম লুনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন। হাসপাতালের সেবা সম্পর্কিত সনাক কর্তৃক হাসপাতাল পর্যবেক্ষণের সবল ও দুর্বল দিক তুলে ধরেন সনাক সদস্য জনাব সাইফুল ইসলাম রেজা। সবল দিকগুলো হলো- ঔষধের তালিকা টানানো আছে এবং হালনাগাদ করা আছে। বিভিন্ন ধরনের সেবার তালিকা ও সেবার মূল্য তালিকা টানানো আছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মাত্রা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। টয়লেট প্রতিদিন পরিস্কার করা হয়। হাসপাতালের ফার্মেসিতে কর্তব্যরত কর্মকর্তা সময়মত উপস্থিত থাকেন। নারী পুরুষের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার আছে। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ঔষধ কাউন্টার আছে। সেবাগ্রহণকারী রোগীদের তথ্য বোর্ডটি হালনাগাদ করা হয়। সিটিজেন চার্টার বা তথ্যবোর্ড আছে। দুর্বল দিক গুলো- প্রতি শবিার ও বুধবার ডাক্তারের সাথে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত থাকলেও অন্য দিনেও তারা হাসপাতালে ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাত করেন। সকাল ৮ টায় ডাক্তারদের হাসপাতালে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনেক ডাক্তার সকাল ১০টায় হাসপাতালে উপস্থিত হন। জরুরী বিভাগে সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়। ব্লাড ব্যাংকে রোগীকে রক্ত দেওয়ার জন্য ব্যাগ কিনে দিতে হয় এবং ২৫০ টাকা রক্ত গ্রহীতার নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়। এর বিপরীতে কোন রশিদ দেওয়া হয় না। ওয়ার্ডের টয়লেটের দরজার ছিটকিনি ভাল না ও কোন কোন বাথরুমে দরজা নাই। রোগীদের সময়মত তিনবেলা খাবার দেওয়া হলেও ভাতের পরিমান কম দেওয়া হয়। ডেসিং করার সময় ৫০/১০০ টাকা করে সেবাগ্রহীতাদের নিকট থেকে গহণ করা হয়। ট্রলি টানার জন্য ৩০ টাকা করে নেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার নাম, পদবী, ফোন নম্বর সম্বলিত বোর্ড টানানো নাই। অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত রেজিষ্টার ব্যবহার করা হয় না এবং নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার নাম, পদবী, ফোন নম্বর দর্শনীয় স্থানে টানানো নাই। পানি ও পয়: নিস্কাশন ব্যবস্থা খুবই খারাপ। আশেপাশের ড্রেন, বাথরুম দুর্গন্ধযুক্ত। কোন কোন জায়গায় টয়লেটের পাইপ দিয়ে মল বের হয়ে আসে। হেল্প ডেস্ক নাই। হাসপাতালে খাবার পানির সরবরাহ নাই। ৩য় তলায় মহিলা ওয়ার্ডের জানালার গ্লাস নাই এবং কোন কোন রুমের দরজা নাই। প্রধান অতিথি আরো বলেন, ডাক্তারদের সময়মত উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরা নির্ধারিত সময়ের বাইরে হাসপাতালে প্রবেশ করবে না। কোন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানালা-দরজা ও টয়লেট মেরামতের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে যা আগামী এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। খাবার সরবরাহকারী ভেন্ডরকে পরিমিত পরিমান খাবার দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। হেল্প ডেস্ক চালু করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার নাম, পদবী, ফোন নম্বর সম্বলিত বোর্ড টানানো হবে। অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত রেজিষ্টার ব্যবহার করা হয় না এবং নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার নাম, পদবী, ফোন নম্বর দর্শনীয় স্থানে টানানো। সাবমারসিবল পাম্পের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করা হবে। অল্প দিনের মধ্যে হাসপাতালের সেবান মান আরো উন্নত হবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হাসপাতালের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ঘোষণা করা হলেও ১০০ বেডের জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট এর মাধ্যমে হাসপাতাল পরিচালনা করা হয়। সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক ও সনাক সদস্য জনাব ডাঃ মোঃ ফখরুল ইসলাম, শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট জনাব ডাঃ মোঃ আবুল কাশেম, সনাক সহ-সভাপতি জনাব গোলাম ফারুক মিথুন প্রমুখ। সভায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মোঃ শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কনসালটেন্ট, আরএমও, মেডিকেল অফিসার, নার্স, টেশনিশিয়ান, ফার্মাসিষ্ট সনাক, স্বজন ও ইয়েস সদস্য এবং টিআইবি কর্মকর্তা সহ ৩৪ জন নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।