চাঁপাইনবাবগঞ্জে নয় বছরে আ.লীগ সরকারের উন্নয়ন

আজ বৃহস্পতিবার বর্তমান সরকারের ৯ বছরে পার হল। এ-উপলক্ষে সারাদেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। ৯বছর পূতিতে জেলা সদরে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ এমপির উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, পোস্টারিং, ব্যানার ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ-সবের মধ্যদিয়ে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হবে উন্নয়ন কর্মকা-।
দেশের জনগণকে দিন বদলের যে প্রতিশ্রতি দিয়ে বতর্মান আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার ২০০৮ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল তার সিংহভাগই বাস্তবায়ন করেছে এবং এ-ধারা অব্যাহত রেখেছে। মহান-মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার দেশের আপামর জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, আইসিটিসহ প্রতিটি খাতে যথাযথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়নকে গতিশীল করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে উল্লিখিত খাত সমূহে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্তবিভাগ, স্বাস্থ্যবিভাগসহ অন্যান্য সরকারি বিভাগ পড়ার মতো অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। জেলা সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় উন্নয়ন কর্মকা-ের পেছনে একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে তেমনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অবদানও কম নয়। এমনটাই মনে করেন প্রকল্প গুলোর বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সরকারের গত ৯বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান ভূইঞা জানান, বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্প গুলোর মধ্যে সদর উপজেলার সাহেবের ঘাটে মহানন্দা নদীর উপর ৫৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৪৬ মিটার দৈর্ঘ শেখ হাসিনা সেতু, অংশগ্রহণমুলক ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন সেক্টর প্রকল্পের আওতায় ১৫ কোটি ৫০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৪টি সেচ অবকাঠামো ও পানি নিষ্কাশন ক্যানেল নির্মাণ, অস্বচ্ছল ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ টি বাসস্থান নির্মাণ, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪৫ কি.মি রাস্তা উন্নয়ন এবং একই প্রকল্পের আওতায় ১৩২ মিটার কালভার্ট নির্মাণ, অপর প্রকল্পের আওতায় ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩২ কি.মি রাস্তা পাকা করা হয়েছে ইত্যাদি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, গত ৯ বছরে তাঁর দপ্তর ২১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২টি সেতু নির্মাণ, ২টি সেতু পুনর্নির্মাণ, ৭টি কালভার্ট নির্মাণ, প্রায় ১৪৭ কিলোমিটার ১০টি সড়ক উন্নয়ন, ৫২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করেছে। এছাড়াও ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা জানান, বর্তমান সরকারের গত ৯ বছরে বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পে গুলোর মধ্যে ১৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪তলা বিশিষ্ট চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ, ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে চক্ষু হাসপাতাল, ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শিবগঞ্জ থানা ভবন, ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ভবন, ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি ইউনিয়ন ভূমি অফস ভবন নির্মাণ। এ-সময়ের মধ্যে ৫৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো জানান, চলমান রয়েছে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ কাজ, ৩০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের আরো ৪ তলা নির্মাণ কাজ, ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণ কাজ, ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সোনামসজিদে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ভবন নির্মাণ, ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এনএসআই-এর অফিস ভবন, ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পুলিশের বেতার ভবন, ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বন্দিব্যারাকসহ ১০৮ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, গত ৬ বছরে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে সদর উপজেলার আলাতুলিতে ২৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ দশমিক ২২ কিলোমিটার পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণ, বাখের আলীতে ৪ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ বিশ্বব্যাংক সাহায্যপুষ্ট আরো ৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্য।এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও ভোলাহাটে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মহানন্দা নদী তীর সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসসহ অন্যান্য অফিসার গুলোর অধীনে আরো অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে একাডেমিক ভবন নির্মাণ, যুবভবন নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।
এ-সব প্রকল্প বাস্তবাতি হওয়ায় জেলাবাসী প্রত্যক্ষভাবে সুফল পাচ্ছে। শেখ হাসিনা সেতু নির্মাণের ফলে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের যোগযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্মমান সরকারের উন্নয়নের এ-ধারা অব্যাহত থাকবে-এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।