হরিজন সম্প্রদায়ের বাল্যবিয়ে কমছে না

আমাদের দেশের সামাজিক সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম বাল্যবিয়ে। বাল্যবিয়ের কারণে অনেক তরুণী তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এর প্রচলন হরিজনদের মধ্যে আরো বেশি। শিশুদের যে বয়সে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ঘুরে বেড়ানোর কথা, সে বয়সে তারা প্রবেশ করে অন্য এক জীবনে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ঝিলিম বাজার হরিজন পল্লিতেও বাল্যবিয়ের প্রভাব লক্ষ্য করার মতো। বাল্যবিয়ে দেয়ার ফলে তারা শারীরিক ও মানসিকসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগছে। হরিজন সম্প্রদায়ের বাল্যবিয়ের শিকার মুক্তি রানী। ২ বছর আগে তার বাল্যবিয়ে দিয়ে দেয় বাবা-মা। খুব ছোটতে বিয়ে হওয়ায় তাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয়। মুক্তি রানী বলেন-ক্লাস থ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করে আমার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ছোটতে বিয়ে হওয়ায় আমার অনেক সমস্যা হয়। আমার উপর সবসময় মানসিক চাপ থাকে।
৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে বিয়ে হয়ে যায় সীমার। ইচ্ছা থাকলেও লেখাপড়া করতে পারেন নি সীমা। সিমা বলেন-৭ বছর আগে বাবা-মা খুব ছোটতে আমার বিয়ে দিয়ে দেয়। সংসারের কোন সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে নিতে পারি না। আমার ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া করে চাকরি করার, কিন্তু খুব ছোটতে বিয়ে হওয়ার জন্য পারিনি।
একটি শিশুর ভবিষ্যত গড়তে বাবা-মা হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু দারিদ্র্যতা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারনে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয় হরিজন সম্প্রদায়ের অভিভাবকরা। হরিজন সম্প্রদায়ের অভিভাবক শংকর বলেন-আমাদের ছেলে মেয়েরা একটু বড় হলে যেকোন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে তাই নিজেদের মান সম্মান রক্ষা করার জন্য তাদের ছোট অবস্থাতেই বিয়ে দিয়ে দিতে হয়।
বাল্যবিয়ে দেয়ার কারণ সম্পর্কে সাবিনা নামের এক মা বলেন-মেয়ে বড় হলে যৌতুক বেশি লাগে আবার আশেপাশের লোকজন নানান কথা বলে। তাই নিরাপত্তার কথা ভেবে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিই।
হরিজনদের বাল্যবিয়ের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে ৩নং ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি বলেন-সচেতনতার অভাব ও দারিদ্র্যতা বাল্যবিয়ের অন্যতম কারণ। আর হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে তো বাল্যবিয়ের প্রভাব অনেক বেশি। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সভা করা হয়। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মহিলাদের নিয়ে সচেনতামূলক সভা-সমাবেশও করা হয়। শিক্ষা, সচেতনতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা যেতে পারে বলেও জানান চেয়ারম্যান ।

নিলুফা ইয়াসমিন

রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফ এম,
বেলেপুকুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।