২০১৭ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের সফলতা > সর্ববৃহৎ অস্ত্রের চালান আটক করা হয় বটতলাহাটে

9

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গতবছর জেলা পুলিশের সব চেয়ে বড় সাফল্য ছিল ২২ অস্ত্র উদ্ধার। সাফল্য ছিল জঙ্গী বিরোধী অভিযানেও। বছরজুড়ে চলা অভিযানে চল্লিশজন জঙ্গীকে আটক করে জেলা পুলিশ। জেলায় বিভিন্ন ধরনের আঠাশটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম এ জেলায় যোগদানের পর জেলার আইনশৃঙ্খলার চিত্রটা পাল্টে যায়। বিশেষ করে তিনি যোগদানের পর যে কারণে বেশি আলোচিত হয়েছিলেন সেটা হচ্ছে রাত আটটার পর ছাত্রদের বাইরে থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি। অভিভাবক মহলে বিষয়টি প্রশংসিত হয়েছেল সে উদ্যোগ।
বহু বছরের জিমিয়ে পড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা যেন আরো নতুন করে চাঙ্গা হয়। খোদ জেলা পুলিশের মধ্যে এখন নিয়মিত জবাবদিহি করতে হয়। বর্তমানে ভালো কাজের জন্য পুলিশ সদস্যদের মাঝে কাজ করার প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। এর অবদান একমাত্র পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম। যার ফলশ্রুতিতে জেলার পুলিশ বাহিনী নানা রকম ভাবে পুরস্কৃত হচ্ছে। এ ছাড়াও শহরের বটতলাহাটে টি এম মোজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ অস্ত্রের চালান আটক করা হয়। যার জন্য পুলিশ সুপার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কারও গ্রহণ করেণ।
২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিলে অপারেশন ঈগল হান্ট ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এরপর থেকে জোরদার হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গী বিরোধী অভিযান। টানা দুদিন শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে জঙ্গী আবুসহ আরো চার জন আত্মঘাতে নিহত হন। জিবিত উদ্ধার করা হয় আবুর স্ত্রী সুমাইয়াসহ তার দুই কন্যাকে। নিহত জঙ্গী আবুর স্ত্রীকে ওই মামলায় আটক করা হয়। তিনি বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সুমাইয়া কারাগারে একটি কন্যা সন্তানের জন্মও দিয়েছেন। এর পর পুষ্কুনি এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারি সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ। সে-সাথে তার আরো দু-সহযোগিকেও গ্রেফতার করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, অপারেন ঈগল হান্টের পর বছর জুড়ে জেলায় চলতে থাকে অভিযান। অভিযানে সর্বমোট চল্লিশজন জঙ্গীকে পুলিশ আটক করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে বিস্ফোকসহ জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জ থেকে এক জেএমবি সদস্যকে গানপাউডারসহ গ্রেফতার করা হয়। তারা সকলেই কারাগারে বন্দী রয়েছে। পুলিশ সুপার আরো জানান, জঙ্গী বিরোধী অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ ২০১৭ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আঠাশটি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, উনচল্লিশটি ম্যাগজিন,এক শ তের রাউন্ড গুলী, সাড়ে ষোল কেজি গানপাউডার, এগার হাজার আট শ তেতাল্লিশ বোতল ফেন্সিডিল, তেরানব্বই কেজি গাঁজা, বাইশ শ পঁচিশ লিটার চোলাই মদ, ষোল হাজার এক শ উনআশি পিস ইয়াবা ও সাড়ে ছয় কেজি হেরোইন জব্দ করেছে। এ সব ঘটনায় মোট মামলা দায়ের করা হয়েছে আট শ আঠা নব্বয় টি। এ পর্যন্ত তাতে গ্রেফতার করা হয়েছে এক হাজার উন আশি জন আসামীকে।

ডি এম কপোত নবী