ইংল্যান্ডের লিড কুকের ডাবল সেঞ্চুরিতে

আগের ১০ ইনিংসে ফিফটি না পাওয়া অ্যালেস্টার কুক তুলে নিয়েছেন বছরের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। তার ম্যারাথন ইনিংসে মেলবোর্ন টেস্টে লিড নিয়েছে ইংল্যান্ড।
চতুর্থ টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ৯ উইকেটে ৪৯১ রান। প্রথম ইনিংসে দলটি এগিয়ে ১৬৪ রানে।
ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া কুক অপরাজিত ২৪৪ রানে। তার ৪০৯ বলের ইনিংসে চার ২৭টি।
বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাটে আরও একটি দিন নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ১০ নম্বরে নেমে ফিফটি করে দারুণ অবদান রেখেছেন স্টুয়ার্ট ব্রড।
১০ ঘণ্টা ধরে ব্যাটিং করছেন কুক। তাকে ফেরাতে একের পর এক পরিকল্পনা করেছেন স্টিভেন স্মিথ। নানাভাবে ফাঁদ পেতেছেন, প্রলুব্ধ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। কিছুতেই কিছু হয়নি, অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলকে পাঁচশ রানের কাছে নিয়ে গেছেন কুক। তার দৃঢ়তায় তৃতীয় দিন ২৯৯ রান যোগ করেছে অতিথিরা।
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড বা এমসিজিতে কোনো অতিথি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন কুক। ছাড়িয়ে গেছেন ১৯৮৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডসের ২০৮ রানকে।
টেস্ট ক্রিকেট সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকার ১০ নম্বরে থেকে এই মেলবোর্ন টেস্ট শুরু করেছিলেন কুক। একে একে মাহেলা জয়াবর্ধনে, শিবনারাইন চন্দরপল ও ব্রায়ান লারাকে পিছনে ফেলে উঠে এসেছেন ছয় নম্বরে।
দিনের দ্বিতীয় শেষ বলে চার হাঁকিয়ে লারাকে (১১ হাজার ৯৫৩) ছাড়ান কুক। ১৫৩ রানে দুরূহ একটি সুযোগ দিয়েছিলেন স্মিথকে কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।
এক সঙ্গে ১১৩ টেস্ট খেলে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো জুটি বাধেন কুক-ব্রড। দুই জনের শতরানের জুটি দলকে দলকে এনে দেয় বড় লিড।
জ্যাকসন বার্ডকে দারুণ এক স্ট্রেইট ড্রাইভে দুইশ রানে যান কুক। ইংলিশ ওপেনার ডাবল সেঞ্চুরিতে যেতে খেলেন ৩৬০ বল।
সেই ১৯৯১ সালে শেষ ইংলিশ ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিফটি করেছিলেন ক্রিস লুইস। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বাউন্স তোপের মুখে বুক চিতিয়ে এবার ৫৬ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন ব্রড। বাউন্সারে হুক করে চার হাঁকিয়ে ফিফটিতে পৌঁছান তিনি। সব মিলিয়ে তার ইনিংসে ৮টি চারের পাশে একটি ছক্কা।
২ উইকেটে ১৯২ রান নিয়ে দিন শুরু করে ইংল্যান্ড। ৪৯ রান নিয়ে খেলা শুরু করা জো রুট ফিরেন ৬১ রান করে। অধিনায়কের বিদায়ে ভাঙে ১৩৮ রানের জুটি।
ডাভিড মালান, জনি বেয়ারস্টো, মইন আলি, ক্রিস ওকস- মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা ফিরেন থিতু হয়ে।
মালানের আউটটা একটু অদ্ভুত। বল ব্যাটের কানায় লাগার পরও এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন তিনি। রিভিউ নিলেই বেঁচে যেতেন। কিন্তু আউট দেওয়ার পর রিভিউ না ফিরে যান তিনি। আগের দিন একই কাজ করেন জেমস ভিন্সও।
নিয়মিত উইকেট পতনের মধ্যেও অবিচল ছিলেন কুক। ওকসের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটিতে দলকে এনে দেন লিড। ব্রডের সঙ্গে ১০০ রানের জুটিতে যা হয়েছে আরও বড়।
এখনও রানের খাতা খুলেননি ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান জেমস অ্যান্ডারসন। আড়াইশ রান থেকে মাত্র একটি শট দূরে কুক। ২০ বছরের মধ্যে প্রথম ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যারি দ্য ব্যাট থ্রু দ্য ইনিংসের সুযোগ তার সামনে। যেভাবে খেলছেন বাঁহাতি ওপেনার তাতে দুটোই তার প্রাপ্য।
গত অগাস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৪৩ রানের ইনিংসের পর ফিফটির দেখা পাচ্ছিলেন না কুক। খরা কাটালেন আরেক ডাবল সেঞ্চুরি দিয়ে।
রান দেওয়ার সেঞ্চুরি হয়ে গেছে বার্ড, ন্যাথান লায়ন ও প্যাট কামিন্সের। তিন অঙ্কের রান দেওয়ার খুব কাছে আছেন জশ হেইজেলউড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৩২৭
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: (দ্বিতীয় দিন শেষে ১৯২/২) ১৪৪ ওভারে ৪৯১/৯ (কুক ২৪৪*, স্টোনম্যান ১৫, ভিন্স ১৭, রুট ৬১, মালান ১৪, বেয়ারস্টো ২২, মইন ২০, ওকস ২৬, কুরান ৪, ব্রড ৫৬, অ্যান্ডারসন ০*; হেইজেলউড ৩/৯৫, বার্ড ০/১০৮, লায়ন ৩/১০৯, কামিন্স ৩/১১৭, মিচেল মার্শ ০/৪২, স্মিথ ০/১১)

SHARE