চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরিষা চাষ মাঠ জুড়ে হলুদ আর হলুদ > কৃষকের পাশাপাশি লাভবান হচ্ছেন মৌ চাষিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাঠে মাঠে এখন সরিষা ফুল, যতদূর চোখ যায় যেন হলুদ আর হলুদ।
এ বছর জেলায় সরিষা চাষ হয়েছে ১১ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে সরিষা মাঠের পাশে শতশত মৌ বক্স স্থাপন করেছেন মৌ চাষীরা। মৌ বক্স স্থাপনের ফলে একদিকে যেমন ফলন বাড়ে সরিষার, অণ্যদিকে তেমনি মধু উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন মৌ চাষীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর জেলার ৫ উপজেলার মধ্যে সরিষার আবাদ হয়েছে সদরে ২ হাজার ৬০৫ হেক্টর, শিবগঞ্জে ২ হাজার ৮শ হেক্টর, গোমস্তাপুরে ২হাজার ১১০ হেক্টর, নাচোল উপজেলায় ৩ হাজার ৫৫ হেক্টর ও ভোলাহাট উপজেলায় ৭৯০ হেক্টর।
অন্যদিকে এবছর প্রায় সরিষা ফুল থেকে মৌ আহরণের জন্য ৫ শতাধিক বক্স স্থাপন করেছে মৌচাষীরা। এরমধ্যে যেমন আছেন অনেক তরুণ মৌ চাষী, তেমনি অনেক প্রতিষ্ঠানও বাণিজ্যিকভাবে মৌ চাষ করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনুপনগর, হরিপুর, পলশা, মহানন্দা নদীর তীরসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠ জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলের সমাহার। হলুদের মাঝে অনেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ কেউ তুলছেন ছবি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার অনুপনগর ইউনিয়নের আনারুল ইসলাম জানান, অক্টোবর মাসের শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে একটু বেশি রস ছিল, তারপরও সরিষার আবাদ ভালোই হয়েছে, ফলনও ভালোই হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যারা মৌ চাষ করছেন, তাদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক-ভাবে অনেকটায় সফল চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। এ সংস্থার উৎপাদিত মধু বাজারে নিজস্ব ব্র্যা-ভ্যালু তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। ‘প্রয়াস মধু’ নামে বোতলজাত মধু বেশ কয়েক বছর থেকে বাজারজাত করছে তারা।
সংস্থাটির মৌ চাষ প্রকল্পের টিম লিডার মজিবুর রহমান জানান, সরিষা ফুল থেকে সবচেয়ে বেশি মধু সংগ্রহ করে থাকেন তারা। এবছর তারা ৪০টি মৌ বক্স স্থাপন করেছেন। গত ১৫ দিনে ২শ কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানান, আরো বেশি মধু উৎপাদন হতে পারত, কিন্তু সম্প্রতি শ্বৈত প্রবাহের কারণে কম হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আরো প্রায় তিন থেকে ৪ সপ্তাহ মধু সংগ্রহ করা যাবে বলেও জানান তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা জানান, এবছর অক্টোবরের শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ায় ও জমিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রস থাকায়, সরিষা চাষ কিছুটা গত বছরের চেয়ে কম হয়েছে। এবছর সব মিলিয়ে ১১ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। সেই সাথে অনেক কৃষক গম চাষ করেছে, কম আবাদের এটাও একটা কারণ। অন্যদিকে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ বক্স স্থাপনের মাধ্যমে কৃষক ও মৌচাষী উভয়ই লাভবান হচ্ছেন বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।