দেশসেবায় আত্মনিয়োগে নৌসেনাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

0

নৌবাহিনীর নবীন সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত কাল রবিবার সকালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হয়ে তোমরা এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বে আত্মনিয়োগ করবে। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে সর্বদা ঊর্ধ্বতনদের প্রতি আনুগত্য ও অধঃস্তনদের সহমর্মিতা প্রদর্শন করবে। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তিতে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটোরিয়াল সি, ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে সম্পদের অধিকার পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এই সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন। আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমায় রয়েছে মৎস্য, খনিজ তেল ও অন্যান্য খনিজ পদার্থসহ মূল্যবান সম্পদ। জাতীয় অর্থনীতিতে এই সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কার্যপরিধি এখন অনেক বেড়ে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার সমুদ্র সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরিতে নৌবাহিনী পরিচালিত করছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান ২০১৫ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি কর্মকর্তা ২০১৭ বি ব্যাচের কুচকাওয়াজ দেখেন ও সালাম গ্রহণ করেন। শীতকালীন এই কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ২১ জন নারীসহ ১০৪ জন কর্মকর্তা নৌবাহিনীতে কমিশন পান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার ২১ জন মহিলা কর্মকর্তা কমিশন পেতে যাচ্ছেন, যা নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের বহিঃপ্রকাশ। মিডশিপম্যান ২০১৫ ব্যাচের সোহানুর রহমান চৌকস সদস্য হিসাবে এবার ‘সোর্ড অফ অনার’ পেয়েছেন। এ ছাড়া মিডশিপম্যান সীমান্ত নন্দী আকাশ ‘নৌ প্রধান স্বর্ণ পদক’ পেয়েছেন। ডাইরেক্ট এন্ট্রি কর্মকর্তা ২০১৭ বি ব্যাচের সাব লেফটেন্যান্ট এ ডেজ এম নাসিমুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসাবে পেয়েছেন ‘বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণ পদক’। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক নেওয়ার পর নবীন এই কর্মকর্তারা শপথ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা নবীন অফিসারদের ব্যাজ পড়িয়ে দেন এবং সবার সঙ্গে তার ছবি তোলা হয়। পরে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং কেক কাটেন। কর্ণফুলী নদীতে নোঙ্গর করা বাংলাদেশে নির্মিত নৌ বাহিনীর জাহাজগুলোর প্রদর্শনীও তিনি দেখেন। নৌ বাহিনীকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি বলেন। আমরা দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করেই জাতির পিতার দিক নির্দেশনা অনুসরণ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এরই ধারাবাহিকতায় সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে সর্বোচ্চ সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, গড়ে তোলা হয়েছে হেলিকপ্টার ও টহল বিমান সমৃদ্ধ নেভাল এভিয়েশন এবং বিশেষায়িত ফোর্স-সোয়াডস। পটুয়াখালীতে এভিয়েশন সুবিধা সম্বলিত নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ নৌঘাঁটি, ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নৌঘাঁটি এবং কুতুবদিয়ায় সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রামের সীতাকু-ে সন্দ্বীপ চ্যানেলে জাহাজ বার্থিং সুবিধা সম্বলিত ফ্লিট সদর দপ্তর নির্মাণ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে সমুদ্র এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আমি আশা করি। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় খুলনা শিপইয়ার্ড এবং নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, নিজেরা জাহাজ তৈরি করব এবং দরকার হলে রপ্তানিও করব। প্রধানমন্ত্রী সকালে চট্টগ্রাম নৌ ঘাঁটিতে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাউদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ তাকে স্বাগত জানান। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।