এখন আর ভিক্ষা করেন না ওমর আলীরা

8

প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় ও পিকেএসএফ-এর আর্থিক সহযোগিতায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রাণীহাটি ও নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত রানীহাটি ইউনিয়নে ১০ আর নেজামপুরে ২ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পুনর্বাসিত সেসব মানুষ এখন আর ভিক্ষুক নেই, তারা বিভিন্নধরনের ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন।

প্রয়াসের ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচি

এমনই একজন ওমর আলী। তাঁর বাড়ি রানীহাটি ইউনিয়নের ঘোড়াপাখিয়ার কামার পাড়া গ্রামে। ওমর আলী দির্ঘদীন যাবৎ ভিক্ষা করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। এতে করে তাঁর অভাব অনটন লেগেই থাকত। চারদিকে যখন তাঁর অন্ধকার ঠিক তখনই আলো হয়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। ভিক্ষুক থেকে তিনি বর্তমানে মুদি দোকানী। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাঁকে একটি গরুও দেয়া হয়েছে। গরু পালন আর দোকান চালিয়ে তিনি এখন খুব ভালো রয়েছেন।
ওমর আলী জানান, আগে আমি ভিক্ষা করতাম, কেউ আমাকে মূল্য দিত না। কিন্তু প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোটাইটি থেকে আমাকে সাহায্য করা হয়। তাঁরা আমাকে টাকা দেন আর গরু কিনে দেন। যে টাকা পেয়েছি সেটা দিয়ে মুদিখানার দোকান দিয়েছি। আমি আর আমার স্ত্রী দুজন মিলে দোকান ও গরু দেখাশুনা করছি। এখন আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক মু.তাকিউর রহমান জানান, রানীহাটি ও নেজামপুর উইনিয়নে ভিক্ষুক মুক্ত করতে ভিক্ষুক পুনর্বসন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা রানীহাটি ইউনিয়নে ১০ জন আর নেজামপুর ইউনিয়নে ২ জন ভিক্ষুককে করেছি। আমাদের উদ্যোগ হচ্ছে এ ২ ইউনিয়নকে ভিক্ষুক মুক্ত করা। যা অব্যাহত থাকবে।
প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির রাণীহাটি (ইউনিট-১০) এর সমৃদ্ধি কর্মসূচির উদ্যোগ উন্নয়ন কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি এ কর্মসূচির আওতায় ১০০ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, কৃষ্ণগোবিন্দপুর ডিগ্রী কলেজে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভিক্ষুক পুর্নবাসন কর্মসূচির উদ্যোমী ৪ জন সদস্যের মাঝে ৪ টি গাভী বিতরণ করা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত থেকে গাভীগুলো বিতরণ করেন।
ভিক্ষুক মুক্ত করতে প্রয়াসের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সচেতন মহল।