কুশনারের ফোন ধরতে অস্বীকৃতি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ফোন ধরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ নভেম্বর ফিলিস্তিনি নেতাকে ফোন করেন কুশনার। তবে মাহমুদ আব্বাস ফোনটি না ধরে সেটি ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির কাছে ফরওয়ার্ড করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ফিলিস্তিনের হুঁশিয়ারির কয়েক দিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটলো। কয়েক দিন আগে এক ভিডিও বার্তায় ওই হুঁশিয়ারি দেন ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের সিনিয়র আলোচক সায়েব এরিকাত। তিনি বলেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ যদি ওয়াশিংটনে অবস্থিত ফিলিস্তিনি মিশন বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনায় অটল থাকে, তবে তাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সাইব উরেইকাত বলেন, ফিলিস্তিনি মিশন বন্ধ করে দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। ইহুদিবাদী ইসরায়েলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তারা এই হুমকি দিয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন প্রধান ইয়াসির আরাফাত ১৯৯৩ সালে আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংকট মিটিয়ে ফেলার মার্কিন প্রস্তাব মেনে নেন। মার্কিন মধ্যস্থতায় ওই আপস প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরের বছর ১৯৯৪ সালে ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বাধীন পিএলও ওয়াশিংটনে একটি কূটনৈতিক মিশন খোলে। তখন থেকে মার্কিন সরকার প্রতি ছয় মাস পর পর এই মিশনের অনুমতি নবায়ন করে। ওই অনুমতি নবায়নের অনেকগুলো শর্তের একটি হচ্ছে, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যত বড় অপরাধই করুক না কেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য আন্তর্জাতিক কোনও আদালতে যাওয়া যাবে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছিল বলে ওয়াশিংটন দাবি করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা ‘ফিলিস্তিনি নেতাদের সুনির্দিষ্ট কিছু বক্তব্যের’ বরাত দিয়ে দাবি করেছেন, তারা আইসিসি’তে যাওয়ার পরিকল্পনা করার কারণে পিএলও’র মিশনের অনুমতি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইসিসি’র প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর দায়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পিএলও ইসরায়েলের সঙ্গে আপস প্রক্রিয়া শুরু করলেও ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে এসেছে। তারা বলছে, আলোচনার মাধ্যমে নয় বরং প্রতিরোধের মাধ্যমেই কেবল ফিলিস্তিনিরা তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায় করতে পারে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনেহ বলেছেন, আসন্ন দিনগুলোতে ফিলিস্তিন-আমেরিকা সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রটি একটা নিষ্পত্তিমূলক জায়গায় পৌঁছাবে। একজন সিনিয়র ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার মাহমুদ আব্বাসের নির্দেশ এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে। এ মুহূর্তে এটা সিনিয়র কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ঘটছে। তবে অপেক্ষাকৃত নিচের ধাপের কর্মকর্তারা এখনও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।