রাজশাহীতে এসডিজি অর্জনে দক্ষতা উন্নযন বিষয়ক কর্মশালা

শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জ্বালানী সক্ষমতা অর্জন, সেই দিক চিন্তা করে গ্যাস ও বিদ্যুতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে গ্যাসের যে চাহিদা আছে, তা ২০১৮ সালের মধ্যেই আমরা পূরণ করতে সক্ষম হব, সেসাথে আগামী দিনের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার এসডিজি অর্জনে দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় এ পরিকল্পনার কথা জানান, কর্মশালার প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, আমরা ৮৩ বছরের পরিকল্পনা সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি, বঙ্গবন্ধু বলেছেন ‘আমাদের কেউ দাবায় রাখতে পারবা না’, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে আমরা এগিয়ে চলেছি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এর আর্থিক সহায়তায় বিভাগীয় পর্যায়ে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে স্থানীয়করণ, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নযন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা রাজশাহীর নানকিং দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় আম, আলু, চাল, পর্যটনসহ রাজশাহী বিভাগে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে চলমান সম্ভাবনাময় শিল্প গুলো গুলো চিহ্নিত এবং নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌপথের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি নৌপথ সংস্কারসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণায়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. নমিতা হালদার উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের মধ্যে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গ্রুপ ওয়ার্ক উপস্থাপন করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ও উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রথম পর্বে এসডিজি অর্জন বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা ১০ ভাগে বিভক্ত হয়ে গ্রুপ ওয়ার্কের পর নিজ নিজ গ্রুপের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে ব্যক্তিগত খাতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে পুনরায় ১০টি ভাগে বিভক্ত হয়ে গ্রুপ ওয়ার্ক সম্পন্ন করেন। পরে তারা নিজ নিজ গ্রুপের উপস্থাপনা তুলে ধরেন। এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কর্মশালাটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে অংশগ্রহণকারীগণ মত প্রকাশ করেন।