ভোলাহাটে রেশম চাষীদের মুখে হাসি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় রেশম চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। ১শ ৬৫ জন বসনী অগ্রহায়ণী-১৪২৪ বন্দে পলুপালন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন।
রেশম, আম ও লাক্ষার জন্য বিখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা। এক সময় এতিন ফসল ও শিল্পের উপর নির্ভর করে উপজেলার অর্থনীতির চাকা ছিল সচল। কিন্তু আম উৎপাদন অপরির্তীত থাকলেও রেশম ও লাক্ষা চাষ মুখ থুবড়ে পড়ে। এর মধ্যে লাক্ষা চাষ সম্পন্ন বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং একদিকে দেশের বাইরে থেকে রেশম আমদানি অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির মুখে পড়ে রেশম চাষ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন অধিকাংশ রেশম চাষী। কিন্তু এখনও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রেশম চাষীরা রেশম চাষ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে এ উপজেলায় ১শ ৬৫ জন বসনী রেশম চাষের উপর নির্ভর করে রুটি রুজির ব্যবস্থা করছেন।
রেশম বোর্ড, ভোলাহাট জোন সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় ভোলাহাটের নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি বন্যায় তুঁতের জমি পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাষীরা চরম ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বন্যার কারণে ১৪ হাজার রেশম ডিম সকল বসনীর মাঝে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তারপরও অগ্রহায়ণী-১৪২৪ বন্দে ৭ হাজার রেশম ডিম ৭০ জন বসনীর মাঝে বিতরণ করা হয়। এ বন্দে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকা এবং নিয়মিত ভাবে রেশম চাষীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে রেশম বোর্ডের জেলা রেশম সম্প্রসারণ সহকারী পরিচালক কাজী মাসুদ রানা, হিসাব রক্ষক সাইফুল ইসলাম, ফার্ম ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন, রেশম প্রতিপাদক অলিউল হকসহ অন্যরা পরামর্শ প্রদান করায় চলতি বন্দে বাম্পার উৎপাদন হয়েছে।
এ ব্যাপারে রেশম চাষী সামিরুদ্দিন, তোফাজ্জল হোসেন, নবী উল ইসলাম নবী জানান, অগ্রহায়াণী-১৪২৪ বন্দে রেশমের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের এ বন্দে প্রাকাতিক দুযোর্গে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন উপজেলার রেশম চাষীরা। এ বন্দে বন্যার কারণে তুঁত জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক বসনী রেশম চাষ করতে পারেন নি। তবে যে সকল বসনী রেশম চাষ করেছেন তারা সবাই বাম্পার উৎপাদন পেয়েছেন। স্থানীয় রেশম বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের পরামর্শতে রেশমের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রেশম সম্প্রসারণের সহকারী পরিচালক কাজী মাসুদ রানা জানান, এ ধারা অব্যাহত থাকলে এবং কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে রেশমের হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব। সেসাথে রেশম চাষীরা দ্রুত নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন বলে জানান।