পেঁয়াজের অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে সরকার

আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে পেঁয়াজের দাম। হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় উদ্বিগ্ন সরকার। সেজন্য তার কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন আরো সপ্তাহখানেক পেঁয়াজের দাম চড়া থাকবে। যদিও পাইকারি বাজারে ধীরগতিতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমছে। বাজার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাজারে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটি বৈঠকে বসে। সেখানে দাম বাড়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি মনিটরিং টিম মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত হয়। মনিটরিং টিমের সদস্যরা রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজার পরিদর্শন এবং পণ্যটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করবেন। সূত্র জানায়, গত মাসে পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে টনপ্রতি ৩০২ ডলার মূল্য ধরে ৫৯ হাজার ৭২২ টন। আর ২৯০ ডলারে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৬২ টনের। অর্থাৎ ঋণপত্র খোলার সময়ে পেঁয়াজের কেজিপ্রতি মূল্য ধরা হয় ২৪ টাকা। শেষ পর্যন্ত তা নিষ্পত্তি হয় ২৩ টাকায়। তাছাড়া অক্টোবর মাসের প্রথম ২১ দিনে টনপ্রতি ৩৩০ ডলার মূল্য ধরে ৪৯ হাজার ৩২০ টন পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে। ২৮৭ ডলারে নিষ্পত্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৫৫ টন। সেক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলায় পেঁয়াজের দাম ধরা হয় কেজিপ্রতি ২৬ টাকা। অন্যদিকে তা নিষ্পত্তি হয় প্রতি কেজি ২৩ টাকায়। আকস্মিক পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে পেঁয়াজসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানের অভাবকেও দায়ি করছেন অনেক ব্যবসায়ী। তাদের মতে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা, উৎপাদন ও আমদানিসংক্রান্ত সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। যার কারণে দাম কখনো অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে; আবার কখনো কখনো অস্বাভাবিকভাবে কমে আসছে।
সূত্র আরো জানায়, খুব শিগগিরই পেঁয়াজের দাম কমে আসবে। আর বাজারে বড়জোর আগামী এক সপ্তাহ পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। তবে পাইকারি বাজারে ইতিমধ্যে দামে কিছুটা নিম্নগতি দেখা গেছে। বর্তমানে পাইকারিতে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে ৫-১০ টাকা। গত রোববার পাইকারিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ৫৫ টাকায়, যা পরদিন ৫০ টাকায় নেমে আসে। অন্যদিকে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজের দাম ওইদিন ৭০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ৬০-৬৫ টাকায়। বর্তমানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। মূলত ভারতের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবেই বাংলাদেশে পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে ভারতের নাসিক অঞ্চলের পেঁয়াজ উঠে যাবে। তাছাড়া কয়েকদিনের মধ্যে দেশী মুড়িকাটা পেঁয়াজেরও সরবরাহ চলে আসবে। তখন দাম কমে আসবে।
এ প্রসঙ্গ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শামীমা ইয়াসমিন জানান, দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটির নির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পেঁয়াজের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে। বর্তমানে পণ্যটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে মনিটরিং টিম কাজ শুরু করেছে। এছাড়া পণ্যটির দাম কমিয়ে আনার বিষয়ে পরবর্তীতে একটি সুপারিশও দেবে কমিটি।