প্রয়াত জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের প্রথম প্রয়াণ দিবস আজ

30

আজ মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রয়াত জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের প্রথম প্রয়াণ দিবস। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আজ বাদ আসর সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ অক্টোবর জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার অফিসে নিয়মিত বিভাগীয় মাসিক সভায় যোগদান করেন। সভা শুরুর আগ মুহূর্তে মোবাইালে একটি ফোন আসে। মোবাইলে কথা বলতে বলতে তিনি দরজার পাশে যান এবং মেঝেতে পড়ে যান। তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সেদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁকে একনজর দেখার জন্য সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তাঁর বাসভবনে ছুটে আসেন। বিকাল সোয়া ৪ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফকিরপাড়া কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দানে প্রথম নামাজে জানাযা শেষে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার শুকতাইলের উদ্যোশ্যে এ্যাম্বলেন্স যোগে নিয়ে যাওয়া হয় এব সেখানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। একই বছরের ২৬ জানুয়ারি তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি তাঁর দপ্তরকে ঢেলে সাজান। দুর্নীতি মুক্ত করতে সিসিটিভি সংযুক্ত করেন এবং ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করেন। প্রয়াত ওই জেলা প্রশাসক অল্প সময়ের মধ্যেই এই জেলার মানুষকে আপন করে নিয়েছিলেন, দেখিয়েছিলেন সবুজ জেলা গড়ার স্বপ্ন। প্রাকৃতিক সৌন্দের্যের লীলাভূমি বাবৃডাইংকে পিনিক স্পট করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর কয়েকদিন পূর্বে তিনি জেলা পর্যায়ের সকল সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে বাবুডাইং পরিদর্শন করে তাঁর বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন শুধু বৃক্ষশোভিতই নয়-এই জেলার সরকারি বেসরকারি ভবন গুলোর রংও হবে সবুজ, যাতে বাইরে যে কোন মানুষ এই জেলায় আসলে বুঝতে পারেন এটা আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ লক্ষে তিনি আমচত্বর করারও পরিকল্পনা করেন।