চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুইদিনের গম্ভীরা প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সনদপত্র বিতরণ > গম্ভীরাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতার আহবান

42

গম্ভীরার ইতিহাস অনেক প্রাচীন। গম্ভীরা শুধু লোকজ ঐতিহ্যই নয়- গম্ভীরা এখন বাল্য বিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ সমাজ সংস্কারে জনসাধারণকে সচেতন করার একটা অন্যতম মাধ্যম হিসাবেও কাজ করছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গম্ভীরা সংরক্ষণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে নানা-নাতি ও নানী-নাতনির উপস্থাপনায় এমনটাই উঠে এসেছে।
গত কাল সোমবার বিকালে জেলা শহরের বেলেপুকুরে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নোকিব হোসেন মিলনায়তনে দুইদিনের গম্ভীরার উপর প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণগ্রহণকারী গম্ভীরা দল গুলোর মাঝে সনদপত্র বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে ২ টি দল পৃথক পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত সময়ে গম্ভীরা উপস্থাপন করেন।
“সেভিং গম্ভীরা, ইন্ট্যাজেবল কালচারাল হেরিটেজ অব বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
ইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সহায়তায় আয়োজিত এই প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ হোসেন খান। গম্ভীরার ইতিহাস অনেক প্রাচীন উল্লেখ করে তিনি এই শিল্পের আরও উৎকর্ষ সাধনের জন্য প্রয়োজনে জাতীয় পর্যায়ের খ্যাতিমাণ গীতিকার দিয়ে গম্ভীরার গানের অংশের কথা রচনার পরামর্শ দেন। এই সময় তিনি বলেন গম্ভীরার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। তিনি প্রয়াসের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
ইউনেস্কো বাংলাদেশের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিার জন্য জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা করার সুপারিশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রশিক্ষণের রিসোর্স পারসন গম্ভীরা বিষয়ক গবেষক জাহাঙ্গীর সেলিম, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, তাসাদ্দক আহমাদ, ইউনেস্কো প্রতিনিধি খালেদ রিয়াদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার ফারুকুর রহমান ফয়সাল, লোক সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষক আরমান আলীসহ অন্যান্যরা। দুইদিনের প্রশিক্ষণে নানা দিক তুলে ধরেন প্রশিক্ষকগণ। এর আগে অংশ নেওয়া অন্য ১৯ টি গম্ভীরা দল বিভিন্ন বিষয়ে একটি করে গম্ভীরা পরিবেশন করে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া গম্ভীরা দল গুলো হল- প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট নারী গম্ভীরা দল, প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট শিশু গম্ভীরা দল, লক্ষীপুর গম্ভীরা দল, এম এম হক আইডিয়াল স্কুল গম্ভীরা দল, শিশু পরিবারের ৩টি গম্ভীরা দল, প্রভাতী শিশু গম্ভীরা দল, প্রভাতী মহিলা গম্ভীরা দল, চাঁপাই মহিলা গম্ভীরা দল, মহারাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় গম্ভীরা দল, প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট পুরুষ গম্ভীরা দল, শিবগঞ্জ গম্ভীরা দল, আঁধার থেকে আলোর পথে গম্ভীরা দল, রামজীবনপুর গম্ভীরা দল, রহনপুর-বোয়ালিয়া গম্ভীরা দল, ভোলাহাট গম্ভীরা দল, শ্রীরামপুর গম্ভীরা দল, নাচোল গীতাঞ্জলি গম্ভীরা দল, ফুরসেদপুর- হাজারদীঘী গম্ভীরা দল ও তরুণ গম্ভীরা দল।
এর আগে এই প্রকল্পের আওতায় ১০টি নারী ও ১০টি পূরুষ গম্ভীরা দল বাছাই করা হয়।