শোচনীয় হারেও আত্মবিশ্বাস টলেনি মাহমুদউল্লাহর

দুঃস্বপ্নের ব্যাটিংয়ে ৯০ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মনোবল ভেঙে পড়া স্বাভাবিক। তবে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, শোচনীয় হারেও টলেনি তাদের আত্মবিশ্বাস। পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ দলের ঠিকানা স্পোর্টস ভিলেজে মঙ্গলবার দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহমুদউল্লাহ। “ব্যাটিং নিয়ে খুবই হতাশ। উইকেটটা খুব ভালো ছিল। যেভাবে চেয়েছিলাম ব্যাটিংটা সেভাবে করতে পারিনি। স্কিল কাজে লাগাতে পারিনি। ছোট ভুল করেছি অনেকগুলো। তবে এখনও আমরা আত্মবিশ্বাসী। দ্বিতীয় টেস্টে উইকেট যেরকমই থাকুক আমরা খুব ভালো ব্যাটিং করব। খুব ভালোভাবে সিরিজে ফিরে আসব।” টেস্ট শেষে টিম মিটিংয়ে পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কথা হয়েছে ক্রিকেটাদের নিজেদের মাঝেও। “নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি। ম্যাচ শেষে টিম মিটিংয়ে যেসব বলা দরকার ছিল, যে ভুলগুলো আমরা করেছি সেসব নিয়ে কথা হয়েছে। দিনশেষে সেটা মাঠে কাজে লাগাতে পারব।” প্রথম টেস্টে যেমন চেয়েছিল তেমন উইকেট পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় টেস্টে পেস সহায়ক বাউন্সি উইকেট চেয়েছেন অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি। মাহমুদউল্লাহ জানান, প্রতিপক্ষের অধিনায়কের পছন্দের উইকেটেও নিজেদের মেলে ধরতে তারা প্রস্তুত। “নিউ জিল্যান্ডে সাকিব ডাবল সেঞ্চুরি করেছে, মুশফিক দেড়শ রানের ইনিংস খেলেছে। এই ছোট ছোট জিনিসগুলো আমাদের আত্মবিশ্বাস দেয় যে, ওরা যেরকম উইকেটই বানাক আমাদের সেটা দেখার বিষয় নয়। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের স্কিল ভালো, এখন মাঠে যদি কাজে লাগাতে পারি।” প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রানে শেষ ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অমন ধসের পরও শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস কোথায় পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ? “বিশ্বাসটা নিজের ভেতর থেকেই আসে। আত্মবিশ্বাস থাকেই। যদিও গত ইনিংসে ভালো খেলিনি। ফিফটি বা ৩০-৪০ রানগুলো আরও বড় করতে পারলে প্রথম ইনিংসের চেহারা অন্য রকম হতে পারত। এগুলো এখন বলে লাভ নেই। এখন দ্বিতীয় টেস্টে ফিরে আসতে হবে, এটাই মূল বিষয়।” মাহমুদউল্লাহ জানান, ড্র করার লক্ষ্য নিয়েই পঞ্চম দিন খেলতে নেমেছিলেন তারা। কিন্তু তাদের ব্যাটিংয়ের ধরনে নেই তার প্রমাণ। অনেকেই আউট হয়েছেন শট খেলতে গিয়ে। সতীর্থদের শট খেলায় দোষের কিছু দেখেন না মাহমুদউল্লাহ।“একেক জনের ধরন একেক করকম। অনেকে শুরুতে গিয়ে স্ট্রোক খেলে। শট খেলা দোষের কিছু না। কেউ শট খেলে সেট হয়, সে যদি বাজে বলে ৩/৪ টা চার মারতে পারে কেন নয়? তার নিজের খেলাই খেলা উচিত। তবে কন্ডিশনও বিবেচনায় রাখতে হবে এবং সেটা ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল। তবে আগেই বলেছি আমরা আমাদের সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারিনি।” প্রথম টেস্টে ব্যাটিং-বোলিং কোনোটাইতে সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ব্লুমফন্টেইনের ঠিকানা হোটেল মেরিয়টে যাওয়ার সময় মাহমুদউল্লাহদের সঙ্গী পাহাড় সমান চাপ। এমন চাপ জয় করে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় তার পুনরাবৃত্তির সংকল্প ক্রিকেটারদের।