পদ্মার ভাঙ্গনে বিদ্যালয় >পড়ালেখা অনিশ্চিত ২’শ শিক্ষার্থীর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পদ্মার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। ৮৪নং সরকারি এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু অংশ এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, অবশিষ্ট অংশটি নদীরগর্ভে বিলীন হওয়ার আগেই ইটসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ১৮৭ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন।
সরেজমিন-কালীন দেখা যায়, বিদ্যালয়টি ভাঙ্গার কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক, বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক না থাকলেও দেখা যায় বিদ্যালযের নৈশ প্রহরী ইসমাইল হোসেনকে। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক আছেন। স্কুলের পাকা ভবন ভাঙ্গার কাজ শুরু করায় ১৫ দিন থেকে ক্লাস হয় না, তাই স্যারেরা আসেন নি।
পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, এলাকাটি দূর্গম হওয়ার কারণে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে কোন শিক্ষকই বেশি দিন থাকতে চান না, সবাই চেষ্টা করে শহর বা অন্য কোন স্কুলে চলে যান। আর এখনতো ভাঙ্গনের কারণে বিদ্যালয়টিতে পাঠদানই বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা সচল রাখতে বিদ্যালয়টি অন্য কোন স্থানে আবারও নির্মাণের দাবি জানান এ জনপ্রতিনিধি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন জানান, নদী ভাঙ্গনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট অংশের ইট, রডসহ যা পাওয়া গেছে, সেগুলো ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। নতুন করে আবারও টিনশেডের বিদ্যালয় নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, বিদ্যালয়ের জন্য স্থান নির্বাচনের কাজ করছি আমরা। আশা করছি দ্রুতই বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম চালু করতে পারব। সে সময় বেশি বেশি পাঠদানের মাধ্যমে আমরা কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পূরণ করতে পারব।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। যাতে শিক্ষার্থীদের কোন সমস্যা না হয়, সেজন্য জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।