রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শিবিরের মামলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে নেতাকর্মীদের মারপিটের অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৪ নেতাকর্মীকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছে ইসলামি ছাত্র শিবির। রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গত বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক নাবিউল ইসলাম। বিচারক জুলফিকার উল্লাহ মামলাটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য মতিহার থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীর আইনজীবী আবু মোহাম্মদ সেলিম জানিয়েছেন। মামলায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, সহ-সভাপতি মাহফুজ আল আমিন, সাদ্দাম হোসেন, মিজানুর রহমান সিনহা, শাদীদ মুনতাসির এলাহী, বরজাহান আলী, আহমেদ সজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুন জামিল সুস্ময়, চঞ্চল কুমার অর্ক, মুশফিক আহমেদ তন্ময়, আবিদ আহসান লাবন, মেহেদী হাসান মিশু, দপ্তর সম্পাদক আবুল বাশার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল্লাহীল গালিব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুবেল, উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হক, সহ-সম্পাদক আরমান কায়সার আবির, আবদুল্লাহীল কাফি, মামুন, উপ সম্পাদক কায়সার ও সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত অনিক মাহমুদ বনিকে আসামি করা হয়েছে। আইনজীবী সেলিম বলেন, গত ৮ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের ১৩ জন নেতাকর্মীকে মারপিট করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিহার থানার ওসি মেহেদি হাসান বলেন, আমরা এখনও এ ধরনের মামলার কথা শুনিনি। এ ধরনের মামলার কোনো নথি আদালত থেকে আমাদের কাছে আসেনি। আদালত থেকে নথিপত্র থানায় আসলে বিচারকের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রশিবিরের এই মামলা দায়েরের কথা শুনেছেন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, শিবির মামলা-হামলা করে ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে পারবে না। শিবিরকে প্রতিহত করতে ছাত্রলীগ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, শুনেছি মামলার কথা। দেশকে যারা বিশ্বা করে না, মুক্তিযুদ্ধকে যারা বিশ্বাস করে না, বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করে না তাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ বলেন, লড়াই বলেন- সেটা ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃতে ছিল। এখনও বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃতে সেই যুদ্ধ, অ্যাকশন এখনও অব্যাহত। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে অবশ্যই বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে, ভালোবেসে, ১৫ অগাস্টকে সম্মান করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে করতে হবে।