বাতাসে ভেসে উড়ে যায় বুলেট ট্রেন

বাতাসে ভেসে থাকতে জানতে হবে। আর ভেসে থেকেই ছুটতে হবে অসম্ভব জোরে। এটাই মন্ত্র বুলেট ট্রেনের। কিন্তু চাইলেই তো আর ভেসে থাকা যায় না পৃথিবীতে। ওজন থাকলে তো নয়ই। ওজনই ভেসে থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁডায়। পৃথিবীর মায়া মানে অভিকর্ষ বল (ফোর্স অফ গ্র্যাভিটি) তো কাউকেই বেশি ক্ষণ ভেসে থাকতে দেয় না বাতাসে। ওজন থাকলে তো আরওই দেয় না। সেই ভেসে থাকা বা ভেসে থাকতে চাওয়া বস্তুটিকে নীচে, পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টেনে নামাবেই অভিকর্ষ বল। পৃথিবীর এই মায়া কাটানো খুবই মুশকিল কোনও ওজনদার বস্তুর পক্ষে। তাই বাতাসে অনেক ক্ষণ ধরে ভেসে থাকতে গেলে আগে পৃথিবীর ওই মায়া কাটাতে হবে সেই বস্তুটিকে এমন অস্ত্রে শক্তিশালী করে তুলতে হবে যাতে তা পৃথিবীর অভিকর্ষ বলকে পুরোপুরি উপেক্ষা, অগ্রাহ্য করতে পারে। ওজন থাকলেও যাতে সেই বস্তুটিকে পৃথিবীর অভিকর্ষ বল টান মেরে নীচে নামাতে না পারে। তবে শুধু ভেসে থাকলেই তো হবে না। ভেসে থাকা অবস্থাতেই তাকে ঝডরে গতিতে ছুটতেও হবে। সেই ছোটানোর জন্যেও ভাসমান বস্তুটিকে আরেকটি অস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে। বাতাসে ভেসে থেকে ঝডরে গতিতে ছোটার জন্য অবশ্য দশভূজার ১০ রকমের অস্ত্রের দরকার নেই বুলেট ট্রেনের। একটি কৌশলেই তাকে ভাসিয়ে রাখা আর ছুটিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় দীর্ঘ ক্ষণ। দীর্ঘ পথ। সেই কৌশলেই চলে বুলেট ট্রেন। জাপানে, জার্মানিতে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ভারতেও সদ্য চালু হয়েছে। তবে সেই বুলেট ট্রেন কিন্তু ট্র্যাক ছুঁয়েই চলছে। ট্র্যাক ছেড়ে কিছুটা ওপরে ওঠার সাহস দেখাতে পারেনি। প্রশ্ন উঠতে পারে, ট্র্যাক ছুঁয়েও কী ভাবে ভারতে ট্রেন ছুটছে বুলেট গতিতে? উত্তরটা হল, জাপানে যে কৌশলে চালানো হয় বুলেট ট্রেন, ভারতে ঠিক সেই কৌশলেই তা চলছে না। যে কারণে বিমান আরও বেশি উচ্চতায় উটে যেতে পারে তরতরিয়ে, কিছুটা সেই কৌশলেই বুলেট ট্রেন ছুটছে ভারতে। ম্যাগলেভ কী জিনিস? জাপান সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বুলেট ট্রেন চলে যে কৌশলে, বিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে বলে ম্যাগনেটিক লেভিটেশন। সংক্ষেপে, ম্যাগলেভ। কোনও কিছু ছুটছে মানে কোনও বাধা, কোনও প্রতিরোধকে ঠেলে এগুচ্ছে। সামনে এগুতে গেলেই বাধা কাটাতে হবে। কথাটা জীবনে যতটা সত্যি, ততটাই সত্যি প্রকৃতি, পরিবেশেও।