নাচোলে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার হাকরইল গ্রাম থেকে বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ নিজ বাড়ির ঘর থেকে স্ত্রী নাসিমা খাতুন (৪০) ও বাড়ির বাইরে কুমড়ার উঁচু মাচার বাঁশে ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামী মইদুল ইসলামের (৪৮)’র লাশ উদ্ধার করে।
নিহতদের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, মইদুল ও নাসিমা দম্পতির এক ছেলেসহ ৫ সন্তান। এর মধ্যে বড় মেয়ে মর্জিনার বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে ময়ুরী(১৪) একটি মাদ্রায়ায় পড়ে, ১০ বছর বয়সী সালমা ও ৮ বছর বয়সী সাইমার পড়ে হাকরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীতে আর সব ছোট ছেলে বয়স ৫বছর, সেও একই স্কুলের শিশু শ্রেণিতে পড়ে।
বাবা ও মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সকালেই ছুটে এসেছেন মইদুলের বড় মেয়ে মর্জিনা। তিনি বলেন-“আমার ছোট ভাই বোনেরা কার কাছে থাকবে, কে তাদের খাওয়াবে”। এই চিন্তা করেই কাঁদছেন মর্জিনা। কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, “আমি তো বড় জোর এক সম্পাহ থাকব, তারপর শ্বশুর বাড়ি চলে যেতে হবে, তখন আমার ছোট ভাই বোনেরা কার কাছে থাকবে, কে তাদের খাওয়াবে”। তিনি জানান তার বাবাকে চিকিৎসার জন্য বুধবার পাবনা নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, বাড়ির দুইটা ছাগল বিক্রি করে টাকা জোগাড় করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা করানোর আগেই এ দুর্ঘটনা ঘটে গেল ।
ছেলেকে হারিয়ে বাড়ির পাশেই বসে আহাজারি করছেন মইদুল ইসলামের মা নূরফুল বেগম (৬৫), তিনি বলছিলেন “এই বছরের মধ্যেই ক্যানসারে হামার এক বেটি মারা গেল, আবার হ্যামার এই ছ্যালা ও ছ্যালার বউ চল্যা গেল, হ্যামি কিভাবে সহব আল্লাহ”।
হাকরইল গ্রামে যেন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাড়াপ্রতিবেশিরা ভিড় করছেন মইদুলের বাড়িতে, এই সময় তারা আহাজারি করে বলতে থাকেন, মাটা বেঁচে থাকলে ছেলে মেয়ে গুলো একটা আশ্রয় পেত, পাখির ডানার মত ঢেকে রাখত, কিন্তু এখন কার কাছে থাকবে, কিভাবে চলবে, কি খাবে, কারণ মইদুলের বাবা সিরাজ উদ্দীনও সেভাবে কাজ করতে পারেন না, দরিদ্র মানুষ।
ছেলে ও ছেলের বউ’র লাশ’র সাথে থাকা মইদুলের বাবা সিরাজ উদ্দীন নাচোল থানায় বুধবার দুপুরে বলেন, “টাকার অভাবে ছেলেটার চিকিৎসা করাতে পারেনি, আর এখন বাপ মা হারা ছ্যালা গ্যালাকে হ্যামাকে দেখতে হবে, ভিক্ষা করা ছাড়া হামার আর কোন উপায় নাই, তারপরও তারঘে ল্যাগা হামি ভিক্ষা কর‌্যা হলেও খাওয়ার দিব”।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়ারেছ আলী মিয়া জানান, গলায় দড়ি পেঁচানো ও চৌকির খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় নাসিমা খাতুনের লাশ ঘরের মধ্যে এবং বাড়ির বাইরে কুমড়ার উঁচু মাঁচার বাঁশে ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় নাসিমার স্বামী মইদুল ইসলামের লাশ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মইদুল ইসলাম স্ত্রীকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে। মইদুল কিছুদিন থেকে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা জানান। নাসিমা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা ও মইদুলের মৃত্যুর ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন তার বাবা সিরাজ উদ্দীন।