সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মুমিনুলের

এক সময় তাকে ছাড়া ভাবা যেত না বাংলাদেশের টেস্ট দল। সেই মুমিনুল হক সবশেষ টেস্টে বাদ পড়লেন একাদশ থেকেই। বাংলাদেশ সেই ম্যাচ জিতেও নিল! ফেরার পথ কঠিন। আবার জায়গা পাকা করা আরও কঠিন। মুমিনুলের কাছে সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কণ্ঠে প্রত্যয়, জিতবেনই।
২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক মুমিনুলের। সেই টেস্টে একমাত্র ইনিংসে করেছিলেন ৫৫। পরের ছয় টেস্টে করেন তিনটি সেঞ্চুরি। পরের ১২ টেস্টে সেঞ্চুরি ছিল চারটি।
কিন্তু পরের ১০ টেস্টে নেই সেঞ্চুরি। এই সময়ে ১৭ টেস্টে পঞ্চাশও ছাড়াতে পেরেছেন কেবল চারবার। ব্যাটিং গড়েও সেটির প্রভাব। ৫ টেস্ট শেষে গড় ছিল ৮৩.৪২, ১০ টেস্ট শেষে ৫৮.১২। ২০ টেস্ট শেষে সেটি হয়ে যায় ৫১.১৫।
পরে সেটি নেমে আসে পঞ্চাশের নিচে। গত শ্রীলঙ্কা সফরে গল টেস্টের পর যখন জয়গা হারালেন একাদশে, গড় তখন নেমে হয়েছে ৪৬.৮৮।
তার পরও তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল বিতর্কিত। অতীত রেকর্ড, তার সামর্থ্য এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেই দেয়। তবে ফর্মে যে ভাটার টান, সেটি অনুভব করেছেন মুমিনুলও।
সেই অনুভব থেকেই তার উপলব্ধি, জায়গা আবার জয় করেই নিতে হবে। চ্যালেঞ্জটা তিনি নিচ্ছেন, জয়ের আশাতেও কমতি নেই।
“খেলতে থাকলে একটি গ্রাফ নিয়মিত ধরে রাখা সম্ভব নয়। বিশ্বের সবার হয়। আমি না শুধু, সব বড় বড় ব্যাটসম্যানের নয়। একটা সময় গ্রাফ নিচে নামবেই। সেই সময়টা কাটিয়ে উঠতে হয়। যদি কাটিয়ে উঠে আবার ভালো খেলতে পারেন, সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইনশাল্লাহ আমি কাটিয়ে উঠতে পারব।”
গলে যে টেস্টের পারফরম্যান্সে বাদ পড়লেন, সেই টেস্টে দুই ইনিংসেই দিলরুয়ান পেরেরার অফ স্পিনে এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন মুমিনুল। শোনা যায়, তার অফ স্পিন খেলার ধরনে গলদ দেখেছিলেন কোচ। এই কদিনে সেই গলদে কতটা শোধরালেন?
প্রশ্ন শুনে মুমিনুল হাসলেন। এটিকে যে তিনি সমস্যাই মনে করেন না!
“আমার কাছে মনে হয় না অফ স্পিনে সমস্যা আছে। ব্যাটসম্যান যেহেতু, অফ স্পিন, বাঁহাতি স্পিন, ডানহাতি স্পিন, সবকিছুতে আউট হতে পারেন। তার মানে এই নয় যে খুব দুর্বল।”
“আলাদা করে কিছু করি নাই। যদি আপনি সেভাবে চিন্তা করেন, তাহলে পুরো ব্লাইন্ড হয়ে যাবেন ওই জায়গাটায়। আপনি যদি মনে করেন আপনি ভালো, সেভাবেই কাজ করতে হবে। নিজের কাছে বিশ্বাস, নিজের চিন্তাটাই সবচেয়ে বড়। আমি আলাদা ভাবে কাজ করিনি। হয়ত কিছুকিছু সময় যেগুলো হয়েছে, কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।”
চেষ্টাটা দেখা গেছে চট্টগ্রামের তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও। স্পিন যথারীতি ভালোই খেলেছেন। একাদশে জায়গাটা ফিরে পাওয়ার পথে বড় একটি পদক্ষেপও হতে পারত ওই ম্যাচ। মুমিনুল সামনে এগোলেন বটে, তবে তা যথেষ্ট হলো কিনা, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ৭৩ রানের ইনিংসটি দারুণ ছিল, কিন্তু সেঞ্চুরিতে দাবিটা হতে পারত আরও জোরালো! আক্ষেপটা শোনা গেল মুমিনুলের কণ্ঠেও।
“আক্ষেপ তো সবসময় থাকে। একশ করে আউট হয়ে গেলে দুইশর আক্ষেপ থাকে। দুইশ করে আউট হলে হয়ত তিনশর আক্ষেপ থাকবে। একশ করতে পারিনি, অবশ্যই আক্ষেপ আছে। এসব জায়গায় আউট না হওয়া ভালো, বড় ইনিংস খেলতে পারলে নিজের জন্য ভালো, দলের জন্য ভালো। একটু আক্ষেপ আছে। পরবর্তীতে সুযোগ পেলে ব্যাপারটি কাটিয়ে ওঠা উচিত।”
৭৩ রানের ইনিংসটি একাদশে জায়গা ফিরে পাওয়ার পথে যথেষ্ট কিনা, নিশ্চিত নন মুমিনুল নিজেও। সেটি নিয়ে ভাবতেও চান না। আপাতত কাজে লাগাতে চান পরের সুযোগ।
“ওভাবে চিন্তা করি নাই। অনুশীলন করছি। কাজ যেসব করা দরকার করছি। খেলব কি খেলব না, সেটা টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। আমার হাতে নেই। আমার হাতে যা আছে, চেষ্টা করছি। আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। যেন আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, সেই চেষ্টা করছি।”
চেষ্টায় সফল হবে মুমিনুল, এটি শুধু তার নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটেরও প্রার্থনা!