কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ওআইসি মহাসচিব

কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সর (ওআইসি) মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমাদ আল-ওথাইমিন। শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে পরিদর্শনের আসেন তিনি। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সামনে ওআইসি মহাসচিব বলেন, ওআইসি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এজেন্ডা হাতে নিয়েছে। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছে সংস্থা, যাতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নিজেদের অধিকার ফিরে পায়। এ সমস্যা সমাধানে শুধু ওআইসি নয়, জাতিসংঘ, মানবাধিকার কমিশনসহ সবাইকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ দিয়ে ওআইসি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশের মতো ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান ওআইসি মহাসচিব। প্রথমে ক্যাম্পের ডি ব্লকের ৫ নম্বর শেডের বাসিন্দা ৯ বছরের শিশু আসমা, ১০ বছরের তাহা, ১২ বছরের ফয়সালের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। এ সময় তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে মিয়ানমারের চাইলি প্রাং এলাকা থেকে ছয় মাস আগে আসা আব্দুর রহিমের ঘরে ঢুকে তার স্ত্রী রোহিঙ্গা নারী মিছফালা বেগমের (২২) সঙ্গে মিয়ানমারে অবস্থানকালীন ও ক্যাম্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় মিয়ানমারের নাড়ীবিল এলাকার মির আহমদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২৬), একই এলাকার মোহাম্মদ শাহিনের স্ত্রী সফিনূরও (২৫) ওআইসি মহাসচিবকে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া ক্যাম্পে এনজিও পরিচালিত একটি স্কুলঘরে গত অক্টোবরে মিয়ানমারের আরাকানের উত্তর মংডু এলাকায় সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার ১৭ জন নারী-পুরুষের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মিয়ানমারে ধর্ষণের শিকার জামালিদা (২৭), গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত জাকারিয়া (২৫) তাদের বিভীষিকাময় নির্যাতনের বর্ণনা করেন। এ সময় হল ঘরে কান্নার রোল পড়ে যায়। বৈঠকে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ সিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরু ওআইসি মহাসচিবকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলাপ করেন। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের যুগ্ম সচিব বাকি বিল্লাহ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইন উদ্দিন, কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ সিনিয়র সহকারী সচিব রেজাউল করিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুদ্দীন মো. শিবলী নোমান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রতিনিধি সৈকত বিশ্বাস, ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ইউসেফ বিন আহমাদ আল-ওথাইমিন গত বুধবার চার দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তার প্রথম ঢাকা সফর। ঢাকায় তিনি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও ইতিমধ্যে সাক্ষাৎ করেছেন।